Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দমদমে ডাকাতি: এখনও অধরা অপরাধীরা, আতঙ্কের সঙ্গে বাড়ছে ক্ষোভ

দমদমে ডাকাতি: এখনও অধরা অপরাধীরা, আতঙ্কের সঙ্গে বাড়ছে ক্ষোভ
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মধ্যরাতে দম্পতির গলায় ছুরি ধরে সর্বস্ব লুটের ঘটনার এখনও কোনও কিনারা করতে পারেনি পুলিস। ভাড়াটেদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে বয়ানে কিছু অসঙ্গতি পেলেও গ্রেপ্তার করার জন্য যুৎসই প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই সিসি ক্যামেরার অস্পষ্ট ছবি দেখেই দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিস। রবিবার রাতের ওই ঘটনার পর আতঙ্কের মধ্যেই রয়েছেন দমদমের ওই বৃদ্ধ দম্পতি। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দমদম ও নাগেরবাজার থানা এলাকায় চুরির ঘটনা আগের তুলনায় বেড়েছে। রাতে পুলিসি টহল দেখা যায় না। তাই রাতের শহরে পুলিসি তৎপরতা বাড়ানোর দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। যদিও পুলিস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
Advertisement
দমদম পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নলতা স্কুল রোডের বাসিন্দা শঙ্করকুমার মজুমদার পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে শয্যাশায়ী। তাঁর স্ত্রী পুতুল মজুমদার স্বামীকে নিয়ে সেখানে থাকেন। তাঁদের ছেলে কর্মসূত্রে থাকেন পুনেতে। রবিবার রাতে দুষ্কৃতীরা সেই বাড়িতে ঢুকে বৃদ্ধার গলায় ছুরি ধরে আলমারির চাবি ছিনিয়ে সোনার গয়না ও নগদ টাকা লুট করে। যাওয়ার সময় পুতুলদেবীর গায়ের গয়নাও তারা খুলে নিয়ে যায়। বৃদ্ধা কথা বলার চেষ্টা করলে ছুরির বাঁট দিয়ে মাথায় মারা হয়। আতঙ্কের জেরে মঙ্গলবার সারাদিন নিজেদের ঘরবন্দি রেখেছিলেন দম্পতি। 
এখনও ঘটনার কিনারা করতে না পারলেও পুলিস নিশ্চিত, এই ডাকাতির সঙ্গে পরিচিত কেউ যুক্ত। তাই দুষ্কৃতীরা ঘরে ঢুকে মিনিট কুড়ির মধ্যে ‘অপারেশন’ সেরে চম্পট দিতে পেরেছে। চাবি নিয়ে আলমারির লকার ভেঙে গয়না ও নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। কিন্তু ঘরের অন্য কোথাও তারা হাত দেয়নি। ওই বাড়ির চারজন ভাড়াটের মধ্যে ঘটনার দিন যিনি ছিলেন না, তাঁরই ঘরের জানালার গ্রিল কেটে দুষ্কৃতীরা ঢুকেছিল। আরও রহস্যজনক হল, বাকি যাঁরা ঘরে ছিলেন, তাঁরা কিছুই টের পাননি। এই অবস্থায় তদন্তকারীরা গোয়েন্দা বাহিনীর সাহায্য নিচ্ছেন। এই আবহে পুলিসের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আঁচ বাড়ছে নাগেরবাজার ও দমদম এলাকায়। শহরবাসীর অভিযোগ, রাতে পুলিসি টহল দেখাই যায় না। বড় সড়কগুলিতে তাদের মাঝেমধ্যে দেখা গেলেও অলিগলি একেবারে শুনশান থাকে। ফলে দুষ্কৃতীরা অবাধ যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ