Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

দলের সাফল্য চেয়ে কামাখ্যায় হাজির দুই প্রধানের সমর্থকরা

দলের সাফল্য চেয়ে কামাখ্যায় হাজির দুই প্রধানের সমর্থকরা
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সঞ্জয় সরকার, গুয়াহাটি: মন্দিরের দেওয়াল জুড়ে পাথরের খোদাই করা অজস্র মূর্তি। সেই দেওয়ালেই মাথা ঠুকে মনোবাঞ্ছা পূরণের প্রার্থনায় ব্যস্ত দর্শনার্থীরা। সেখানেই দেখা মিলল মোহন বাগানের এক সমর্থকের। প্রিয় দলের জয়ের কামনায় শনিবার কামাখ্যা মন্দিরে পুজো দিতে এসেছিলেন হাওড়ার শুভঙ্কর রায়। সরাইঘাট এক্সপ্রেসে কলকাতা থেকে সকালেই পৌঁছেছেন গুয়াহাটি। স্টেশন থেকে বেরিয়ে হোটেল না খুঁজে অটো নিয়ে সোজা চলে আসেন মায়ের মন্দিরে। পুজো দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, ‘গত মাসে নর্থইস্টের বিরুদ্ধে ম্যাচের দিন গুয়াহাটি এসেছিলাম। দলের জয় চেয়ে সেদিনও পুজো দিই। মনবীর-লিস্টনের গোলে সেই ম্যাচ জেতে মোহন বাগান। ডার্বির দিনেও তাই এসেছি আবার মায়ের কাছে। জিতে কলকাতায় ফিরতে চাই।’ কথা বলা শেষ হতেই দ্রুত পুরোহিতের সঙ্গে ভূগর্ভে প্রবেশ করলেন শুভঙ্কর। শুধু মোহন বাগান সমর্থকই নন, ইস্ট বেঙ্গল দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা তিন সদস্যকেও দেখা গেল কামাখ্যা মন্দিরে। ডার্বির মহারণের আগে তাঁরাও মায়ের দরবারে হাজির। 
Advertisement
গুয়াহাটির পশ্চিমে কামরূপ জেলার নীলাচল পর্বতের চূড়ায় অবস্থিত ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম কামাখ্যা মন্দির। মূলত দশমহাবিদ্যা অর্থাৎ ভুবনেশ্বরী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ত্রিপুরাসুন্দরী, তারা, কালী, ভৈরবী, ধূমাবতী, মাতঙ্গী ও কমলা দেবীর মন্দির রয়েছে। এর মধ্যে ত্রিপুরাসুন্দরী, মাতঙ্গী ও কমলা প্রধান মন্দিরে পূজিত হন।
অসাম ট্রাঙ্ক রোডের উপরেই পাথরের খোদাই করা বিশাল গেট। সেটাই মূলত কামাখ্যা মন্দিরের প্রবেশদ্বার। আরও তিন কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থিত মায়ের মন্দির। গেটের মুখেই অটো কিংবা মারুতি ভ্যান করে উপরে ওঠার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেকে সেই পথ পায়ে হেঁটেই চলে যাচ্ছেন। তন্ত্রসাধকদের কাছে এই মন্দির বিশেষ তীর্থস্থান। আসামের দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। তাই পুণ্যার্থীদের পাশাপাশি এখানে পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কলকাতার কালীঘাটের মতো এখানেও পুরোহিতদের রমরমা রয়েছে। মন্দিরের পাশে দাঁড়িয়ে পুজো করতে দেদার দক্ষিণা হাঁকাচ্ছেন তাঁরা। একসঙ্গে চার-পাঁচজনকে ভিতরে নিয়ে গিয়েই বলছেন মন্ত্র। ভূগর্ভে দেবীর পাশেই রয়েছে বলিঘর। ‘মানসিক’ পূরণ হতেই সেখানে দেওয়া হচ্ছে পাঁঠাবলি। সবমিলিয়ে, ভাবগম্ভীর পরিবেশ। এবার মা কাদের প্রার্থনা পূরণ করেন, সেটাই দেখার। 
সম্পর্কিত সংবাদ