দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: চরম অব্যবস্থা। হুলুস্থুল। পদপিষ্ট হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা। এবং মৃত্যু। শনিবার মধ্যরাতের মৃতের সংখ্যাটা ১৫ থেকে বেড়ে ১৮ হয়ে যাওয়ার পরও ‘হাই প্রোফাইল’ নিউদিল্লি স্টেশনে বিপর্যয়ের দায় ঝেড়ে ফেলতেই মরিয়া রেল। তাহলে যাবতীয় দোষ কার? যাত্রীদের।
Advertisement
কুম্ভে বিপর্যয়ের পর নিউদিল্লি স্টেশনে একইরকম পদপিষ্টের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। প্রথমে ঘটনার অভিঘাত অস্বীকার করলেও হাসপাতালের বিবৃতি এবং তারপর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকপ্রকাশে ঢোঁক গিলতে বাধ্য হয় তারা। ইতিমধ্যে মৃত ১৮ জনের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর জখমদের দেওয়া হয়েছে আড়াই লক্ষ টাকা করে। ঘটনার পরই দুই সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল বোর্ড। রবিবার সকালে নিউদিল্লি স্টেশনে গিয়ে সেই কমিটির সদস্যরা তদন্ত শুরুও করেছেন। সেই কমিটির প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টই কিন্তু বলছে, আচমকা প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তনের জন্যই এতবড় দুর্ঘটনা। এ কথা জানা যাচ্ছে রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রেই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, তারপরও হঠাৎ প্ল্যাটফর্ম বদলে নিজেদের গাফিলতি মানছেই না রেল। বরং সব দায় কার্যত রেলযাত্রীদের ঘাড়ে চাপিয়ে নর্দার্ন রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাড়াহুড়ো করে প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে গিয়ে দু’-একজন যাত্রী পা পিছলে সিঁড়িতে পড়ে যান। তাঁদের পিছনে যে ভিড় ছিল, তারাও আর তাল সামলাতে পারেনি। ফলে মুহূর্তে বড়সড় বিপত্তি ঘটে যায়। কিন্তু কেন এই ‘তাড়াহুড়ো’? প্ল্যাটফর্ম বদলের পাশাপাশি আরও একটি কারণ প্রকট হয়ে উঠেছে। আর তা হল, বিভ্রান্তি। একই নামে দু’টি ট্রেন ছিল তখন—প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস এবং প্রয়াগরাজ স্পেশাল। রেলমন্ত্রকই দাবি করেছে, ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিল প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস। ১২ নম্বরে দেওয়া হয় প্রয়াগরাজ স্পেশাল। ‘এক্সপ্রেস ট্রেন’ এবং ‘স্পেশাল ট্রেন’ নিয়ে ঘোষণা হয় কার্যত একই সময়ে। প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেসের যাত্রীরা ভেবেছিলেন, তাঁদের ট্রেন ১২ নম্বর থেকে ছাড়বে। অর্থাৎ, প্রয়াগরাজ স্পেশালকে এক্সপ্রেসের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছিলেন তাঁরা। স্পেশাল ট্রেনের যাত্রীদের একাংশও একইভাবে বিভ্রান্ত হয়েছিল। ট্রেন ‘মিস’ হয়ে যাওয়ার ভয়ে দু’পক্ষই তাড়াহুড়ো করে প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। ঘটে যায় চরম বিপদ। নর্দার্ন রেল দায় ঝেড়ে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছে, তাদের তরফে ঘোষণায় কোনও ত্রুটি ছিল না। ‘বিনা কারণে’ বিভ্রান্ত হয়েছিলেন রেলযাত্রীরাই।
১৪ এবং ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামার সিঁড়িতে ঘটেছে দুর্ঘটনা। শনিবার রাতে ওই সময় উল্লিখিত দুটো প্ল্যাটফর্মে অন্য দুই এক্সপ্রেস ট্রেনও দাঁড়িয়েছিল। সেখানেও যাত্রী ভিড় ছিল যথেষ্টই। ফলে সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। নিউদিল্লি সহ বিভিন্ন স্টেশনে কুম্ভ-পুণ্যার্থীদের ভিড় খতিয়ে দেখতে নয়াদিল্লির রেলভবনে ইতিমধ্যেই ঘটা করে ‘ওয়ার রুম’ চালু করা হয়েছে। স্বয়ং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও সেখানে নিয়মিত তদারকি করেন। তার ছবি দফায় দফায় প্রকাশ করে রেল বোর্ড। কিন্তু মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে এও উঠে আসছে যে, শনিবার রাতে ওই ‘ওয়ার রুম’-এ রেলের কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকই ছিলেন না। এই বিষয়টি নিয়েও প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
১৪ এবং ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামার সিঁড়িতে ঘটেছে দুর্ঘটনা। শনিবার রাতে ওই সময় উল্লিখিত দুটো প্ল্যাটফর্মে অন্য দুই এক্সপ্রেস ট্রেনও দাঁড়িয়েছিল। সেখানেও যাত্রী ভিড় ছিল যথেষ্টই। ফলে সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। নিউদিল্লি সহ বিভিন্ন স্টেশনে কুম্ভ-পুণ্যার্থীদের ভিড় খতিয়ে দেখতে নয়াদিল্লির রেলভবনে ইতিমধ্যেই ঘটা করে ‘ওয়ার রুম’ চালু করা হয়েছে। স্বয়ং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও সেখানে নিয়মিত তদারকি করেন। তার ছবি দফায় দফায় প্রকাশ করে রেল বোর্ড। কিন্তু মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে এও উঠে আসছে যে, শনিবার রাতে ওই ‘ওয়ার রুম’-এ রেলের কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকই ছিলেন না। এই বিষয়টি নিয়েও প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে।



