Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

দক্ষিণ কোরিয়ার অস্থিরতার কেন্দ্রে হ্যান্ডব্যাগ!  

দক্ষিণ কোরিয়ার অস্থিরতার কেন্দ্রে হ্যান্ডব্যাগ!
 
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সিওল: দক্ষিণ কোরিয়ায় রাজনীতিতে বর্তমানে অস্থির পরিস্থিতি। জনরোষের মুখে পড়ে সামরিক আইন (মার্শাল ’ল) প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। কিন্তু তাও স্বস্তি পাননি। এবার তাঁকে বরখাস্ত করার (ইমপিচমেন্ট) প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিরোধী শিবির। তবে চলতি সঙ্কটের সূত্রপাত অনেকদিন আগেই। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছেন ইউন। ফলে জনসমর্থনে ভাঁটা পড়তে শুরু করে। শেষপর্যন্ত একটা মহার্ঘ হ্যান্ডব্যাগই প্রেসিডেন্টের গ্রহণযোগ্যতায় বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দেয়।
Advertisement
২০২২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি কিম কিওন হি-কে ডায়োর কোম্পানির তরফে ওই বিলাসবহুল হাতব্যাগ উপহার দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কিমের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হন বিরোধীরা। ওই উপহার গ্রহণের বিষয়টি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালের নভেম্বরে। একটি ইউটিউব চ্যানেল কিমের এই গোপন ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ করে। দেখা যায়, চোই নামে এক যাজক কিমের দপ্তরে এসে তাঁকে প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকার অর্থাৎ ২,২৫০ ডলার মূল্যের ডায়োরের ব্যাগ উপহার দিচ্ছেন। এরপরই গোটা দেশে হইচই পড়ে যায়। কারণ সেই দেশের দুর্নীতি বিরোধী আইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রীর ২ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের উপহার গ্রহণ করতে পারেন না। এক্ষেত্রে কিমের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া ও সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সরব হন বিরোধীরা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলেও সেখান থেকে বেঁচে যান কিম। এনিয়ে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীর দাবি, তাঁদের বদনাম করতেই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। পরের দিকে আরও জানা যায়, ওই যাজক নিজের ঘড়িতে লুকোনো ক্যামেরা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই ভিডিও বানিয়েছিলেন। তবে এই পুরো ঘটনা প্রেসিডেন্টকে তাঁর দলের লোকজন সহ দেশবাসীর কাছে ভিলেন বানিয়ে দেয়।
সম্পর্কিত সংবাদ