নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আবাসনের মধ্যে সরস্বতী পুজো হচ্ছে। তারইমাঝে রাস্তায় গাড়ি পার্কিং। সেই গাড়ি রাখা নিয়ে বচসার জেরে দুই আবাসিকের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ধারালো চাবির রিং দিয়ে এক আবাসিক আক্রমণ করেন অপরজনকে। গুরুতর জখম ওই আবাসিকের থুতনি থেকে গলা পর্যন্ত অংশে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। গুরুতর জখম ওই আবাসিককে স্থানীয় নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর জখম অংশে ২৫টি সেলাই পড়েছে। সোমবার বিকেলের এই ঘটনায় অভিযুক্ত আবাসিক তপন সরকারকে নাগেরবাজার থানার পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। অন্যদিকে, আক্রান্ত আবাসিক বারাকপুর মহকুমা আদালতের আইনজীবী তথা বিজেপির লিগ্যাল সেলের নেতা।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তপন সরকার দক্ষিণ দমদমের হনুমান মন্দির লাগোয়া আবাসনের বাসিন্দা। আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে তিনি মাঝে মধ্যেই তর্ক-বিতর্কে জড়ান। সিপিএম কর্মী হিসেবে পরিচিত। আক্রান্ত আইনজীবী দেবসুন্দর দরিফা ওই আবাসনের বাসিন্দা। তপনবাবু আগেও দেবসুন্দরবাবুর উপর হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সোমবার আবাসনের রাস্তার উপর নিজের চার চাকা গাড়ি পার্ক করে রেখেছিলেন তপনবাবু। আবাসিকরা তাঁকে ওই গাড়ি সরিয়ে রাখতে বলেছিলেন। আবাসিকদের হয়ে দেবসুন্দরবাবু তাঁকে একাধিকবার ওই কথা বলেন। তা নিয়ে বচসা থেকে হাতাহাতি ও হামলার ঘটনা ঘটে। দেবসুন্দরবাবু বলেন, নির্দিষ্ট জায়গার বদলে চলাচলের রাস্তায় গাড়ি থাকলে সকলের সমস্যা হয়। সোমবার পুজোর দিন একই সমস্যা হওয়ায় সকলে গাড়ি সরাতে বলেছিল। আমি নিজে তাঁকে গাড়ি সরাতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি গালিগালাজ করে ঘরে চলে যান। পরে ফের তাঁকে ওই কথা বলায় তিনি উত্তেজিত হয়ে হামলা চালান। পুলিস জানিয়েছে, ওই শিক্ষকের হাতে গাড়ির চাবি ছিল। চাবির রিং দিয়ে আঘাত করেন। ধৃত প্রাক্তন শিক্ষককে এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে, বিচারক তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিস হেফাজতে পাঠিয়েছেন। তবে পুলিসের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক জানিয়েছে, তাঁর গায়েও হাত তুলেছেন অভিযোগকারী। উত্তেজনার বশে তিনি হাত চালিয়েছিলেন। তাঁর হাতে গাড়ির চাবি ছিল। তাতেই কোনও ভাবে গলায় আঘাত লেগেছে। সোমবার রাতে আক্রান্ত আইনজীবীকে দেখতে যাওয়া বিজেপি নেতা গৌতম মন্ডল সাহা বলেন, একজন শিক্ষক হয়ে ওই ব্যক্তি যা ঘটিয়েছেন তা ক্ষমার অযোগ্য।



