Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধর-পাকড়ে কাঁপছেন জেলা তৃণমূল নেতারা , ১৫ দিনে ধৃত ১০, দিশাহীন নিচুতলার কর্মীরা

গত ৯মে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তারপর গত ১৪মে থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পুলিশের ‘ধরো ভরো’ অভিযানে তৃণমূল নেতাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।

ধর-পাকড়ে কাঁপছেন জেলা তৃণমূল নেতারা , ১৫ দিনে ধৃত ১০, দিশাহীন নিচুতলার কর্মীরা
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: গত ৯মে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তারপর গত ১৪মে থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পুলিশের ‘ধরো ভরো’ অভিযানে তৃণমূল নেতাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। এই অভিযানে মাত্র দু’সপ্তাহে এই জেলায় ১০ দাপুটে তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসে জমানায় যাঁরা ভিআইপি খাতির পেতেন এখন তাঁদের কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় হাঁটাচ্ছে পুলিশ। দাপুটে নেতাদের বিরুদ্ধে রোজ অভিযোগ জমা পড়ছে। এই অবস্থায় কে কখন গ্রেপ্তার হবেন তা নিয়ে নেতাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়ার আতঙ্ক চেপে বসেছে। ভয়ে অনেকে মোবাইল বন্ধ রেখে গোপন আস্তানায় গাঢাকা দিয়েছেন। দাগীরা এখন ভয়ে জুজু। কাকে কখন পুলিশ ধরবে সেই আতঙ্কে পরাজিত প্রার্থী থেকে দাপুটে নেতাদের অনেকেই উধাও। তাঁদের মোবাইল বন্ধ। ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এমনও দিন আসতে পারে কখনো কল্পনা করিনি।

Advertisement

গত ১৪মে থেকে পূর্ব মেদিনীপুরে ধরপাকড় শুরু হয়। ওইদিন তমলুক থানায় শহরের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা কাউন্সিলার চঞ্চল খাঁড়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারপর গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন হলদিয়া থানায় প্রাক্তন বিধায়ক তাপসী মণ্ডল ঘনিষ্ঠ আইএনটিটিইউসি নেতা শ্যামল মাইতিকে ডেকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শেষমেশ ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁকে ছাড়া হলেও বিধায়ক ঘনিষ্ঠ শিল্পাঞ্চলের একদা ‘ডন’ শেখ আমির আলি ওরফে আরমান ভোলাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আগ্নেয়াস্ত্র সহ তিনি গ্রেপ্তার হন। কোমরে দড়ি বেঁধে তাঁকে হলদিয়ার রাস্তায় ঘোরায় পুলিশ। খেজুরি বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা শেখ জালাউদ্দিন। তিনি কাঁথি সাংগঠনিক জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি। জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক ঘনিষ্ঠ ওই তৃণমূল নেতাকে ২৪মে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বাড়িছাড়া থাকা সত্ত্বেও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার হন শেখ ওনসেদ। তিনি খেজুরি-১ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ ও দলের অঞ্চল সভাপতি।
পটাশপুর-২ ব্লকের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা সাউথখণ্ড পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান বিজনবন্ধু বাগ গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের ভিতর ছিল গেস্টরুম। সেখানে আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার হয়েছিল। ২৫মে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। চণ্ডীপুর ব্লকের ব্রজলালচক অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি লবকুমার বেরা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। নিজের দোকানের মধ্যে সরকারি ত্রাণসামগ্রী জড়ো করে রাখার ঘটনায় তীব্র বিক্ষোভ হয়েছিল। গত ২৬মে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া, ২৯মে মহিষাদল থেকে প্রাক্তন বিধায়ক তিলক চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা ছবিলাল মাইতিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তৃণমূলের লক্ষ্যা-২অঞ্চল সভাপতি ছবিলাল।
রবিবার খেজুরি বিধানসভার তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থী রবিন মণ্ডল গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি ভগবানপুর-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি। ভগবানপুর থানার পুলিশ অস্ত্র আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এদিনই গ্রেপ্তার হন তমলুক ব্লকের উত্তর সোনামু‌ই গ্রাম পঞ্চায়েতের গত টার্মের প্রধান কাজল বেরা। তিনি জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ বেরার স্ত্রী। চেক বাউন্স মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। আদালত অবশ্য তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ