Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডোমজুড়ের লক্ষ্মীকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে হাসপাতালে রূপান্তরের আর্জি জেলার, রাজ্যের কাছে পাঠানো হল ডিপিআর

ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি ৩০ শয্যার হাসপাতাল বাম আমলে পরিণত হয়েছিল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেই থেকে হাসপাতালের তকমা খুইয়ে ডোমজুড়ের লক্ষ্মীকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্র দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরিষেবা দিয়ে চলেছে।

ডোমজুড়ের লক্ষ্মীকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে হাসপাতালে রূপান্তরের আর্জি জেলার, রাজ্যের কাছে পাঠানো হল ডিপিআর
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি ৩০ শয্যার হাসপাতাল বাম আমলে পরিণত হয়েছিল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেই থেকে হাসপাতালের তকমা খুইয়ে ডোমজুড়ের লক্ষ্মীকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্র দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরিষেবা দিয়ে চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি মেনে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ফের হাসপাতালের রূপ দিতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের কাছে আবেদন পাঠিয়েছে জেলার স্বাস্থ্যদপ্তর। অনুমোদন মিললেই শুরু হবে ২৪ ঘণ্টার পরিষেবা। উপকৃত হবেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

Advertisement

ডোমজুড়ের মহিয়ারি ১ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় এক সময় কুণ্ডু চৌধুরী পরিবারের আর্থিক সহায়তায় তৈরি হয়েছিল লক্ষ্মীকমল হাসপাতাল। ৩০ শয্যার সেই হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া যেত। হতো বিভিন্ন ধরনের রোগ পরীক্ষা। পরবর্তীকালে বাম সরকার হাসপাতালটি অধিগ্রহণ করলেও দিবারাত্রির পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। সাধারণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবেই চালু থাকে এটি। এক সময় মহিয়ারী ১ ও ২ নম্বর, আড়গোড়ি, আন্দুল পঞ্চায়েত মিলিয়ে আশপাশের প্রায় সাতটি গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দা এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। বর্তমানে এই এলাকার মানুষকে সরকারি চিকিৎসা পেতে হলে সাত কিলোমিটার দূরে ডোমজুড় হাসপাতালে কিংবা ১৫ কিলোমিটার দূরে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ছুটতে হবে। তাই দীর্ঘদিন ধরেই লক্ষ্মীকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ফের হাসপাতালের চরিত্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন বাসিন্দারা। এই এলাকাটি মূলত সাঁকরাইল বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। স্থানীয় বিধায়ক প্রিয়া পাল বলেন, ‘বিষয়টি আমি স্বাস্থ্যদপ্তরকে জানিয়েছি। স্বাস্থ্যদপ্তর ইতিমধ্যেই ভবন সংস্কার সহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখে রাজ্যের কাছে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে। এটিকে দ্রুত হাসপাতাল হিসেবে চালু করা গেলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন।’
জেলার স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে লক্ষ্মীকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সোম থেকে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত একজন চিকিৎসক পরিষেবা দেন। যতক্ষণ আউটডোর খোলা থাকে, ততক্ষণ দু’জন নার্স ও একজন ফার্মাসিস্ট থাকেন। পাশাপাশি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যক্ষ্মার থুতু পরীক্ষা ও ম্যালেরিয়ার রক্ত পরীক্ষার কাজও হয়। সেকারণে একজন ল্যাব টেকনিশিয়ানও রয়েছেন। তবে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পুরোদমে হাসপাতালে পরিণত করতে হলে আরও কিছু পরিকাঠামো গড়া দরকার। ইতিমধ্যেই পিডব্লুডি ভবন পরিদর্শন করে সংস্কারের জন্য ডিপিআর তৈরি করেছে। লক্ষ্মীকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০ শয্যার হাসপাতালে পরিণত করতে যাবতীয় নথিপত্র পাঠানো হয়েছে রাজ্যের কাছে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘সরকারের অনুমোদন পেলে সপ্তাহে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্য পরিষেবা মিলবে এখানে। স্বাভাবিক প্রসব থেকে জরুরি চিকিৎসা— সব পরিষেবাই পাওয়া যাবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ