নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ:আবেদনের সময়সীমা বাড়ায় শস্যবিমার ফর্ম সংগ্রহে ফের জোর দিল হুগলি জেলা কৃষিদপ্তর। দুর্গাপুজোর পর আজ, বুধবার থেকে খুলছে সরকারি দপ্তর। ফলে বুধবার থেকে ফর্ম সংগ্রহে তৎপরতা শুরু করা হবে বলে কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ব্যাপারে হুগলি জেলা কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ইতিমধ্যেই দু’ লক্ষের বেশি ফর্ম সংগ্রহ হয়েছে চাষিদের থেকে। কেউ যাতে বাদ না থাকেন সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে শিবির করে ফর্ম সংগ্রহে অভিযান হবে।
হুগলির আরামবাগ মহকুমা কৃষি প্রধান এলাকা। বছরে ধান, আলুর পাশাপাশি, সর্ষে, বাদাম সহ নানা অর্থকরী ফসলের চাষ হয়। কিন্তু চিন্তা থাকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে। ফি বছর ডিভিসির ছাড়া জলে ও অতিবৃষ্টির ফলে প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাতে ব্যাপক ক্ষতি হয় চাষের। বিঘার পর বিঘা জমির ধান, আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে মহকুমায়। তাই চাষিদের বিমার আওতায় এনে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য। এরজন্য চাষিদের ফসলের প্রিমিয়ামও দিতে হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই একাধিকবার ক্ষতিপূরণও পেয়েছেন চাষিরা। যাতে প্রান্তিক চাষিও এই বিমার আওতায় আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। সেইজন্য গত সেপ্টেম্বর মাসেও একাধিকবার শিবির হয়েছে। কোনও চাষিযাতে বিমার আওতার বাইরে না থাকেন তা নিশ্চিত করতে চাইছে কৃষিদপ্তর
কৃষিদপ্তরের খানাকুল ২ ব্লকের এক আধিকারিক বলেন, এবার এই ব্লক থেকে টার্গেটের থেকে কয়েক হাজার বেশি চাষিকে বিমার আওতায় আনা হয়েছে। নতুন করে বিমায় আবেদনের সুযোগ মেলায় কেউ বাদ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চাষিরা সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত অফিস ও ব্লক কৃষি দপ্তরে ফর্ম জমা করতে পারবেন।
এক কৃষি আধিকারিক বলেন, বর্তমানে যেসব জমিতে ধান রয়েছে। চলতি নিম্নচাপের বৃষ্টিতে সেইসব জমিতে সেচের কাজ হিসেবে সুফল মিলেছে। তবে খানাকুল ২ ব্লকের কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায় এবার বন্যা পরিস্থিতির জন্য চাষিরা ধান রোপণই করতে পারেননি। যেসব চাষি ফর্ম জমা করেছেন, তার তথ্য পোর্টালে আপলোড শুরু হয়েছে। নতুন করে ফের ফর্ম সংগ্রহের কাজও সমান তালে চলবে। এরজন্য সংশ্লিষ্ট বিমা সংস্থার সঙ্গে কথা বলে শিবিরের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। গোঘাটের মধুসূদন মণ্ডল বলেন, আমরা সেপ্টেম্বর মাসেই বাংলা শস্যবিমায় ফর্ম পূরণ করে পঞ্চায়েত অফিসে জমা করেছি।