সংবাদদাতা, কাটোয়া: আউশগ্রামে কুনুর নদীর জল বিষক্রিয়ায় মাছের মড়কের তদন্তে নামল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। শুক্রবার কুনুর নদীর জলের ও মরে যাওয়া মাছের নমুনা সংগ্রহ করে জেলা মৎস্য দপ্তর। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হবে ওইসব নমুনা। সেই রিপোর্ট পাঠানো হবে জেলা শাসককে।
জেলার মৎস্য বিভাগের সহ অধিকর্তা শুভব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, জল ও মরা মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও রাজ্যের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরেও পাঠাব। দু’ জায়গা থেকে রিপোর্ট পেলে জেলাশাসককে পাঠিয়ে দেব।
প্রসঙ্গত, গত প্রায় দু’ বছর ধরে কুনুর নদীতে মিশছে রাসায়নিক বর্জ্য। তাতে মাসের পর মাস ধরে মাছ মরছে। বৃহস্পতিবার গুসকরা শহরের বেশ কিছ বাসিন্দা সেই মরা মাছ ধরে ব্যাগ ভর্তি করে নিয়ে গিয়েছেন। কুনুর নদীর এমন অবস্থা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা আঁতকে উঠছেন। তাঁদের অভিযোগ, আউশগ্রাম ও কাঁকসার সীমানাবর্তী এলাকার একটি কারখানার বর্জ্য তরল নদীতে মেশার ফলেই এই পরিস্থিতি। কুনুর নদীর এমন ভয়াবহ অবস্থা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা নিয়ে শুক্রবারই ‘বর্তমান’ পত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়। শুক্রবারই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন।
এদিন মৎস্য বিভাগের সহ অধিকর্তা শুভব্রত চট্টোপাধ্যায়, বনদপ্তরের জেলাস্তরের আধিকারিক মলয়কুমার মাল এবং আউশগ্রাম-১ বিডিও বিমান কর গুসকরা ও সংলগ্ন বাবুরবাঁধ এলাকায় নদীর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাও বলেন। সংগৃহীত নমুনার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কুনুর নদীর মাছ বাসিন্দাদের না খাওয়ার পরামর্শ দেন মৎস্য বিভাগের সহ-অধিকর্তা।
পশ্চিম বর্ধমানের উখড়ার কাছে উৎপন্ন হয়ে কুনুর নদী কাঁকসা, লাউদোহা, আউশগ্রাম, গুসকরা হয়ে মঙ্গলকোটে প্রবেশ করছে। মোট দৈর্ঘ্য ১১২ কিমি। মঙ্গলকোট ব্লকের সারঙ্গপুর, সরুলিয়া গ্রাম দিয়ে ঢুকে কোগ্রামে অজয়ের সঙ্গে মিশছে এই নদী। নদীর উপরে আউশগ্রাম, মঙ্গলকোটের কয়েকশ বিঘা জমিতে চাষ হয়। বহু মৎস্যজীবী মাছ ধরে জীবিকা অর্জন করেন। স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ ও মনিরুল শেখ বলেন, বহু পরিবার স্নান ও বাসন ধোয়ার জন্য নদীর জলের উপরই নির্ভরশীল। গবাদিপশুও এই জল পান করে। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের অভিযোগ। নদীর জল দূষণের স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা। -নিজস্ব চিত্র



