নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলার প্রাথমিকের ডিআই অপর্ণা মণ্ডলকে হঠাৎ বদলি করা হল। তিনি ডিআইয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান পদের দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন। রাতারাতি বদলির নির্দেশ ঘিরে শিক্ষামহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলার প্রাথমিকের ডিআই অপর্ণা মণ্ডলকে হঠাৎ বদলি করা হল। তিনি ডিআইয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান পদের দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন। রাতারাতি বদলির নির্দেশ ঘিরে শিক্ষামহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ থেকে ২৩ জন প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই বদলির নির্দেশ বাতিল হয়। নিয়ম বহির্ভূতভাবে সেই বদলি করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলেছিল একাধিক শিক্ষক সংগঠন। সেই নির্দেশ বাতিলের দাবি জানিয়ে তারা সরব হয়। কাউন্সিলের অফিস ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভও হয়।
এই শিক্ষকদের বদলির নির্দেশ সামনে আসার পর একাধিক শিক্ষকের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করা হয়, সরকারি নিয়ম না মেনে অর্থের বিনিময়ে এই বদলি করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও সরব হয়েছিলেন অনেকে। স্বজনপোষণের অভিযোগও ওঠে। প্রাথমিকের ডিআইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। তারপরেই ডিআইকেই বদলি করা হল। তাও সুদূর উত্তরবঙ্গে। কালিম্পং জেলার প্রাথমিকের ডিআই করা হয়েছে তাঁকে। কালিম্পংয়ের ডিআই সমরচন্দ্র মণ্ডলকে মুর্শিদাবাদে আনা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার প্রাইমারি কাউন্সিলের তরফে ৭৩৬ মেমো নম্বরে বদলির নির্দেশ বের হয়। তারপরই তোলপাড় শুরু হয়। অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচারদের পাশাপাশি তিনজন প্রধান শিক্ষককেও বদলি করা হয়। পরদিনই ৭৩৭ (৯০) মেমো নম্বরে সেই নির্দেশ বাতিল করা হয়। শিক্ষক শিক্ষিকার বদলির নির্দেশ হঠাৎ বাতিলের পর তাঁদের অভিযোগ সঠিক ছিল বলেই দাবি করছে শিক্ষক সংগঠনগুলি।
পাশাপাশি এই বদলির নির্দেশের সঙ্গে ডিপিএসএসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তথা ডিআইয়ের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছিলেন তাঁরা। আর তাতেই চাপে পড়ে বদলির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছিল বলে প্রশ্ন ওঠে। এই বদলি নিয়ে বিক্ষোভ ও নির্দেশিকা বাতিল প্রাথমিক শিক্ষাদপ্তরের নজরে আসতেই বদলি করা হল খোদ ডিআইকে।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অপর্ণা মণ্ডল এদিন ফোনে কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করেন। তবে বদলির নির্দেশ বাতিলের পর তিনি জানিয়েছিলেন, শিক্ষাদপ্তরের এসওপি মেনেই আমাদের এই বদলির অর্ডার করতে হয়। সারপ্লাস টিচারদের বদলির জন্য আমরা শিক্ষকদের থেকে আবেদন চেয়েছিলাম। সেই আবেদনের ভিত্তিতে তড়িঘড়ি একটি অর্ডার বের করতে হয়েছিল। বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের আন্দোলন এবং আপত্তি দেখে তা বাতিল করা হয়।