হাস্যরসে পরিপূর্ণ নাটক ‘বই বাহিক’। স্বনামধন্য সাহিত্যিক বিমল ভৌমিক। তাঁর উপন্যাস, গল্পের পাঠক নতুন প্রজন্ম। তাঁদের মধ্যে মহিলার সংখ্যাই বেশি। গল্পের মহিলা চরিত্রগুলো এতটাই আকর্ষণীয় যে পাঠকরা চরিত্রের নামে নিজেদের নাম বদলে ফেলেন সানন্দে। গল্পের চরিত্র হয়ে ওঠা পাঠককুল আলাপ করতে আসেন লেখকের সঙ্গে। দিনে দিনে সেই আলাপ এমন বাড়তে থাকে যে, লেখক ও তাঁর বিবাহবিচ্ছিন্না দিদির জীবন যন্ত্রণাময় হয়ে ওঠে। নিত্যনতুন ঝামেলায় লেখকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে দাঁড়ায়। গল্প লিখে লেখকের কী ভয়ংকর অবস্থা হতে পারে, তা নিয়ে সম্প্রতি অ্যাকাডেমিতে মঞ্চায়ন হল সমকালীন সংস্কৃতির নতুন নাটক ‘বই বাহিক’। নাটক ও নির্দেশনায় ছিলেন সুদীপ্ত সরকার।
গল্পের চরিত্ররা বিমলকে জীবনসঙ্গী করতে চান। কিন্তু ‘বিবাহ’ শব্দেই ভয়ানক অ্যালার্জি বিমলের। দিদির বিবাহিত জীবন সুখের হয়নি, তা তিনি জানেন। দিদি নিজের জন্য তো আর ভাইয়ের জীবন নষ্ট হতে দিতে পারেন না। তাই তিনি ভাইকে বিয়ের জন্য জোর করেন। একাধিক মহিলা পাঠক বিমলকে নিয়ে টানাটানি করলে দিদির ভালোই লাগে। কিন্তু এই টানাটানি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ভালোবাসা অত্যাচার হয়ে ওঠে। দরজায় বেল মানেই বিভীষিকা। এভাবেই ভালোবাসার গল্প এগিয়েছে। হাস্যরসাত্মক সব উপকরণ দিয়ে নাটককে পরিপূর্ণ করলেও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সরে আসেননি পরিচালক। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে একাধারে সনাতনী বিয়ের পাশাপাশি ‘লিভ টুগেদার’কেও স্থান দিয়েছেন। তরুণ প্রজন্ম প্রেম, ভালোবাসা, বিয়ে— এসব কেমন ভাবে গ্রহণ করছে, তার এক প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে এই নাটকে।
দিদি শিউলির চরিত্রে বিন্দিয়া ঘোষ, বিমলের চরিত্রে সুমিত কুমার রায়, বৃষ্টির চরিত্রে গর্বিতা ঘোষ ঝর্ণার চরিত্রে মৌলি রায় অনবদ্য। এছাড়া কবীর হোসেন, দেবাশিস দাসের অভিনয় ভালো লাগে। অদ্রীশ রায়, সুদীপ্ত সরকারের মঞ্চ ভাবনা, সৈকত মান্নার আলো, কবীর হোসেনের আবহ নাটককে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
তাপস কাঁড়ার