


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বছরে সারা দেশে ৯৩ লক্ষ মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়। পশ্চিমবঙ্গে তা তিন লক্ষ মেট্রিক টন। যা প্রতিদিন নিঃশব্দে নষ্ট করছে প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে। এর বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে লড়াইয়ে নেমেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা। যেখানে একাধিক অফিস, গ্রাম পঞ্চায়েতে বসানো হয়েছে প্লাস্টিক বোতল ডিসপোজাল মেশিন। এটি কোনও সাধারণ মেশিন নয়। এর মধ্যে প্লাস্টিকের একটি বোতল ফেললেই মোবাইলে ঢুকবে একটি এসএমএস। যা আদপে ডিসকাউন্ট কুপন। এই কুপন ব্যবহার করে রেস্তরাঁয় খাওয়া দাওয়া, জামা-কাপড় কেনা থেকে শুরু করে বই এবং ওষুধের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর উপর মিলবে ১৫-২০ শতাংশ ছাড়। অনলাইনে কেনাবেচার ক্ষেত্রেও গ্রহণযোগ্য হচ্ছে এই কুপন। অবিশ্বাস্য হলেও এটা সত্যি যে, বেশি টাকার সামগ্রী কেনাকাটা করলে এই কুপন ব্যবহার করে এক হাজার টাকারও বেশি ছাড় পাওয়া যেতে পারে। মাত্র ১৫ দিন আগে চালু হয়েছে এই ব্যবস্থাপনা। একে মডেল করে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিরুদ্ধে গোটা রাজ্যে লড়াইয়ে নামার তোড়জোড় শুরু করেছে রাজ্য সরকার। শুধু এই প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করতে দক্ষিণ দিনাজপুরে বিশেষ দল পাঠাচ্ছে পঞ্চায়েত দপ্তর।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মুম্বই বিমানবন্দরের মতো কিছু জায়গা ছাড়া প্লাস্টিকের বোতল ডিসপোজাল মেশিনের প্রচলন তেমনভাবে চোখে পড়ে না। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) নবীনকুমার চন্দ্রের নকশায় তৈরি হয়েছে এই মেশিন। এতে রয়েছে একটি কী বোর্ড এবং একটি ডিসপ্লে স্ক্রিন। কাগজের বলাই নেই। মেশিনের নির্দিষ্ট জায়গায় বোতল দিলেই তা টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। তারপর কী বোর্ডে ফোন নম্বর দিলেই মোবাইলে চলে আসছে ডিজিটাল ডিসকাউন্ট কুপন। প্লাস্টিকের সেই কুচি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাস্তা তৈরির কাজে। প্রসঙ্গত, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে অন্তত একটি করে ওলাটিকের রাস্তা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য সরকার।
স্থানীয় রেস্তরাঁ, হোটেল, বই, জামাকাপড়ের দোকান, ওষুধের দোকানের গাঁটছড়া বেঁধেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। ‘অফার’ থাকায় বিক্রিবাটা বৃদ্ধির আশা করছেন দোকান মালিকরা। একারণে তাঁরাও উৎসাহ দেখিয়েছেন এই প্রকল্পে। এই মডেলকে রাজ্যের অন্যত্র কাজে লাগাতে চাইছে পঞ্চায়েত দপ্তর। এই মর্মে ভিডিও বার্তা তৈরি থেকে শুরু করে নয়া উদ্যোগের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি যত বার বা যতগুলি বোতল ডিসপোজাল মেশিনে ফেলবেন, তিনি ততবার ডিসকাউন্ট কুপন পাবেন। রাজ্যের এক আধিকারিক বলেন, বর্তমানে ১০ টাকা দামের প্লাস্টিকের জলের বোতলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সিংহভাগ মানুষই জল খাওয়ার পর খালি বোতলগুলি যত্রতত্র ফেলে দেন। তৈরি হয় প্লাস্টিক বর্জ্য। প্রশাসনের আশা, ডিসকাউন্ট কুপন মেলায় অনেকে উৎসাহিত হয়ে ওই মেশিনে প্লাস্টিক ফেলবেন। এতে মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বৃদ্ধি পাবে।