বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: নেওয়া হয় লিখিত পরীক্ষা, ইন্টারভিউ এবং দুদিনের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা। উতরোতে হয় কঠিন থেকে কঠিনতর ধাপ। এরপর জুনিয়র-সিনিয়র বিভাগ মিলিয়ে প্রত্যেক বছর হাতে গোনা ৩৫০ জন মেধাবী ছাত্রছাত্রী পেতেন জেবিএনএসটিএস (জগদীশচন্দ্র বোস ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ) স্কলারশিপ। অথচ, সরকার পরিবর্তনের পর এই স্কলারশিপের টাকা আটকে গিয়েছে। কয়েকবছরের সফল মেধাবীরা এবছর স্কলারশিপের টাকা পাননি। এমনকি, প্রতিবছর স্কলারশিপ পরীক্ষার জন্য জুন মাসে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হত। এবার এখনো তা হয়নি। এবছরের পরীক্ষা নিয়ে সংশয়ে শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক মহল।
১৯৫৮ সালে জগদীশচন্দ্র বসুর জন্মশতবর্ষে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় ও স্যার জাহাঙ্গির গান্ধী জেবিএনএসটিএস চালু করেন। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তৈরি এই সংস্থার উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যের প্রকৃত মেধা অন্বেষণ। এরপর মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আগামী দিনে সঠিক রাস্তায় এগিয়ে দিতে স্কলারশিপের মাধ্যমে আর্থিক সাহায্য প্রদান। ১৯৬০ সাল থেকে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের চিহ্নিত করে তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু হয়। মূলত মাধ্যমিক এবং বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের এই স্কলারশিপের টাকা দেওয়া হয়। জুনিয়র বিভাগ, অর্থাৎ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগের ২৫০ জন বাছাই ছাত্রছাত্রীকে (জুনিয়র) মাসিক ১,২৫০ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া বইপত্র কেনার জন্য দেওয়া হয় বছরে ২,৫০০ টাকা। এই টাকা মার্চ মাসে কৃতীরা পেয়েছেন।
অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ বাছাই ১০০ ছাত্রছাত্রীকে (সিনিয়র) চারবছর দেওয়া হয়—প্রতিমাসে চার হাজার টাকা। এছাড়া বইপত্র কিনতেও বাৎসরিক ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় তাঁদের। এই টাকা মার্চ মাসে এককালীন দেওয়া হয়। কিন্তু গত মার্চে এই টাকা তাঁরা পাননি। ২০২৫ সালে এই স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত মেধাবীদের মতো, ওই টাকা পাননি ২০২১ এবং পরবর্তী বছরের মেধাবীরাও। কারণ টানা চার বছর এই ছাত্রবৃত্তি তাঁদের পাওয়ার কথা। এমনকি, এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন গ্রহণের বিজ্ঞপ্তি বেরোত জুন মাসে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক মিলিয়ে কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী এজন্য আবেদন করতেন। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি নেওয়া হত লিখিত পরীক্ষা। অথচ, এবছর এখনো বিজ্ঞপ্তিই প্রকাশ করা হয়নি।
নিউবারাকপুরের বাসিন্দা বিজয়কুমার সাহার মেয়ে অঙ্গীরা ডাক্তারি পড়ুয়া। ২০২৪ সালের জেবিএনএসটিএস স্কলার। বিজয়বাবু এই স্কলারশিপের টাকার জন্য সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি দপ্তরের মন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন। অনেক অভিভাবক আবার অভিযোগ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিভান্স সেলে। কিন্তু সদুত্তর পাননি কেউই। বিজয়বাবু বলেন, আমরা সবাই দুঃশ্চিন্তায় রয়েছি। সংশ্লিষ্ট সর্বত্র চিঠি দিয়েছি। বিভাগীয় মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীকে ফোন করার পাশাপাশি মেসেজও করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দেননি।