Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিনিয়োগের টোপে উধাও আড়াই কোটি, নিউটাউনে প্রতারণার ঘটনায় ঝাড়খণ্ডে ধৃত ১

ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড—টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে সাইবার প্রতারণার নয়া ফাঁদ।

বিনিয়োগের টোপে উধাও আড়াই কোটি, নিউটাউনে প্রতারণার ঘটনায় ঝাড়খণ্ডে ধৃত ১
  • ১৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড—টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে সাইবার প্রতারণার নয়া ফাঁদ। অল্প সময়ে বেশি মুনাফার আশায় অনেকেই সেই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। এভাবেই প্রায় আড়াই কোটি টাকা খোয়ালেন নিউটাউনের বাসিন্দা এক মহিলা। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁর। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তারা জানিয়েছে, ধৃতের নাম শ্যামসুন্দর ঝা। সে বিহারের দ্বারভাঙার বাসিন্দা। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে রবিবার বিধাননগরে নিয়ে আসা হয়েছে।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নবীন হোক বা প্রবীণ, ইনভেস্টমেন্ট ফ্রডের শিকার হচ্ছেন সব বয়সিরাই। কীভাবে হচ্ছে জালিয়াতি? প্রথমে প্রতারকরা টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কাউকে যুক্ত করে নিচ্ছে। তারপর গ্রুপের কোনও এক সদস্য  বিনিয়োগের টোপ দিচ্ছে। সে জানাচ্ছে, এভাবে বিনিয়োগ করে সে লাভবান হয়েছে। গ্রুপের মধ্যে সে ভুয়ো তথ্য শেয়ার করছে। নতুন বিনিয়োগকারীকে উৎসাহিত করতে বিপুল লাভের পরিমাণ দেখানো হচ্ছে ওই ভুয়ো তথ্যে। এরপর গ্রুপের অন্য এক সদস্য তথা প্রতারক নিজেকে এ সংক্রান্ত উপদেষ্টা দাবি করে বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছে। এসব দেখে প্রভাবিত এবং উৎসাহিত হয়ে পড়ছেন গ্রুপের নতুন সদস্য। অল্প সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ করা অর্থ তিন থেকে চারগুণ হয়ে ফিরবে বলে টোপ দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই এসব প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করে আদতে প্রতারকদের ‘টোপ’ গিলে ফেলছেন। প্রথমে অল্প অল্প টাকা বিনিয়োগ করছেন নতুন সদস্য। তারপর প্রতারকরা তাঁদের নামে একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলছে। গ্রুপেই সেই অ্যাকাউন্টে লাভের অঙ্ক দেখানো হচ্ছে। বিনিয়োগ করা টাকা প্রতিদিন কত শতাংশ হারে বাড়ছে, তার ভুয়ো তথ্যও তুলে ধরা হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। ভুয়ো লাভের পরিমাণ বাড়তে থাকছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এসব দেখে বিনিয়োগকারীর আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতারকরা তখন আরও বেশি বিনিয়োগের টোপ দিচ্ছে। কিন্তু যখন লাভের টাকা তুলতে যাচ্ছেন, তখনই আর কোনও টাকা মিলবে না। উল্টে প্রতারকরা তখনও বলবে, ‘স্যর, জিএসটি বাবদ কয়েক লক্ষ টাকা জমা করতে হবে। তারপরই সুদ সহ টাকা পাবেন।’ অনেকে সেই টাকাও দিয়ে ফেলছেন। এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ওই গ্রুপ থেকে  ‘রিমুভ’ করে দেওয়া হচ্ছে সেই সদস্যকে। তারপর ওই গ্রুপই ‘ডিলিট’ করে দিচ্ছে প্রতারকরা।
নিউটাউনের এই মহিলাও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। ধাপে ধাপে তিনি মোট ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে বসেন। কিন্তু, যখন টাকা তুলতে যান, বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কারণ, লাভ তো দূরের কথা, বিনিয়োগ করা মূলধনই ফেরত পাননি। তখন তিনি বিধাননগর সাইবার ক্রা‌ইম থানার দ্বারস্থ হন। পুলিস জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ড থেকে ধৃত ব্যক্তি যে সরাসরি এই চক্রে যুক্ত, ইতিমধ্যে তার প্রমাণও মিলেছে। টাকা উদ্ধার করতে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সাইবার ক্রাইম থানা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ