নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা বারুইপুর: পুলিশ ক্যাম্পে আটক ছিল আনন্দ সরদার। গণধর্ষণ-খুনের পরই। সঙ্গে ছিল প্রভাস মণ্ডলও। কিন্তু তারপরই আনন্দ সেখান থেকে ‘উধাও’ হয়ে যায়। প্রথম দিন থেকেই এই অভিযোগ ছিল। তাতেই এবার সিলমোহর দিল প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিয়ো। বারুইপুর গণধর্ষণ-খুনের পরের। এই ভিডিয়ো সামনে আসায় তোলপাড় শুরু হয়েছে (সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান)। প্রশ্ন উঠছে, নৃশংস এই ঘটনায় অভিযুক্ত ধরা পড়ার পরও কীভাবে পুলিশ ক্যাম্প থেকে ‘ছাড়া পেল’? এই গাফিলতি কি ইচ্ছাকৃত? নাকি কারও প্রভাব? খোঁজ নিচ্ছেন শীর্ষ কর্তারা। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, এক এএসআই প্রভাসের কাছে ঘটনার কথা জানতে চাইছেন। প্রভাস তাঁকে বলছে, আনন্দ ঘটনাস্থলে ছিল। এরপরই আনন্দ বলে ওঠে, প্রভাস তাকে ফাঁসাচ্ছে। উলটে সে জড়িয়ে দেয় স্থানীয় অটোচালক রাজাকে। বলে, ‘পার্টির ওই ছেলেটা ছিল। সিসি ক্যামেরা চেক করলেই সব বেরিয়ে যাবে।’ ওই এএসআই জানতে চান, আনন্দ ক্যামেরা চেক করার কে? সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ বলে, সে চেক করবে না। পুলিশ দেখলেই সব বেরিয়ে আসবে। এরপরও কীভাবে সে পালিয়ে গেল, প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ মহলেই।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে, এক্ষেত্রে ফাঁড়ির ইনচার্জের ভূমিকা যথাযথ ছিল না। আনন্দ ধরা পড়ার খবর তিনি স্থানীয় থানা ও ঊর্ধ্বতন অফিসারদের জানাননি। ‘ক্যাজুয়াল ভঙ্গি’তে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছিলেন। সূত্রের খবর, প্রভাসের সঙ্গে তর্ক জুড়ে আনন্দ গোটা বিষয়টি গুলিয়ে দেয়। অভিযোগ উঠছে, প্রভাস-আনন্দের বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ ভালোভাবে যাচাই না করে এবং উপরওয়ালাদের না জানিয়েই তাদের ছেড়ে দেন ওই এএসআই। এমনকী সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত চেক করেননি তিনি। অভিযুক্তদের ক্যাম্পে নিয়ে আসা এবং ছেড়ে দেওয়া—এই পর্বে নিয়মমাফিক জিডি এন্ট্রিটুকুও হয়নি। ক্যাম্পে হামলার সুযোগে আনন্দ পালিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই অফিসার যে জেনেবুঝে বড়োসড়ো গাফিলতি করেছেন, তা স্পষ্ট আধিকারিকদের কাছে। তাঁকে কেউ চাপ দিয়েছিল কি না, সেটাও তদন্তকারীদের স্ক্যানারে রয়েছে।
সূত্রের খবর, যে রাজার দিকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল, সে কিন্তু আনন্দরই বন্ধু। আটক অবস্থায় আনন্দ-প্রভাসের জিজ্ঞাসাবাদের সময় সে বাইরেই দাঁড়িয়েছিল। যেহেতু তার প্রসঙ্গ উঠেছে, তাই মঙ্গলবার দিনভর রাজাকে জেরা করেছে পুলিশ। কিন্তু নাবালিকা গণধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তার কোনো যোগ মেলেনি। তবে আনন্দর ‘উধাও’ হয়ে যাওয়ার পিছনে যে গাফিলতি আছে, তা স্পষ্ট। সেই কারণেই এলাকার লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, টহলদারির ক্ষেত্রেও ফাঁকিবাজি চলত থানা ও ক্যাম্পে। এমনকি ওই এএসআই যে দাবি করছেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেদিন তাঁর ক্যাম্পের টহলদারি ভ্যান বেরিয়ে গিয়েছিল, সে নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন তাঁরা।