Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

প্রত্যক্ষানুভূতিই ধর্ম্ম

ভক্তের পক্ষে এই সকল শুল্ক বিষয় জানার প্রয়োজন, কেবল নিজ ইচ্ছাশক্তিকে দৃঢ় করা মাত্র। এতদ্ব্যতীত উহাদের আর কোন উপযোগিতা নাই।

প্রত্যক্ষানুভূতিই ধর্ম্ম
  • ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভক্তের পক্ষে এই সকল শুল্ক বিষয় জানার প্রয়োজন, কেবল নিজ ইচ্ছাশক্তিকে দৃঢ় করা মাত্র। এতদ্ব্যতীত উহাদের আর কোন উপযোগিতা নাই। কারণ তিনি এমন এক পথে বিচরণ করিতেছেন, যাহা শীঘ্রই তাঁহাকে যুক্তির কুহেলিকাময় ও অশান্তিপ্রদ রাজ্যের সীমা ছাড়াইয়া প্রত্যক্ষানুভূতির রাজ্যে লইয়া যাইবে; তিনি শীঘ্রই ঈশ্বরকৃপায় এমন এক অবস্থায় উপনীত হন, যেখানে পাণ্ডিত্যাভিমানিগণের প্রিয় অক্ষম যুক্তি অনেক পশ্চাতে পড়িয়া থাকে, আর বুদ্ধির সাহায্যে অন্ধকারে বৃথান্বেষণের স্থানে প্রত্যক্ষানুভূতির উজ্জ্বল দিবালোকের প্রকাশ হয়। তিনি তখন বিচার বা বিশ্বাস কিছুই করেন না। তিনি একরূপ প্রত্যক্ষ অনুভব করেন। তিনি আর তর্ক করেন না, প্রত্যক্ষ করেন। আর এই ভগবান্‌কে দেখা, তাঁহাকে উপলব্ধি করা ও তাঁহাকে সম্ভোগ করা কি অন্যান্য সমুদয় বিষয় হইতে শ্রেষ্ঠ নহে? শুধু ইহাই নহে, অনেক ভক্ত আছেন, যাঁহারা ভক্তিকে মুক্তি হইতেও শ্রেষ্ঠ বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। আর ইহা কি আমাদের জীবনের সর্ব্বোচ্চ প্রয়োজনও নহে? এমন লোক জগতে আছেন, তাঁহাদের সংখ্যাও অনেক, যাঁহারা স্থির সিদ্ধান্ত করিয়াছেন, যাহা মানুষকে পাশব সুখ প্রদান করিতে পারে তাহাতেই বাস্তবিক প্রয়োজন ও উপকারিতা আছে। 

Advertisement

ধর্ম্মই বল, ঈশ্বরই বল, পরকালই বল, আত্মাই বল এগুলিও কোন কাজের নয়, যদি ইহাদের দ্বারা অর্থ বা দৈহিক সুখ না পাওয়া যায়। এরূপ লোকের মতে যাহাতে তাঁহাদের ইন্দ্রিয় চরিতার্থ না হয়, যাহাতে তাঁহাদের পরিপূর্ত্তি না হয়, তাহাতে কোন প্রয়োজন নাই। যে ব্যক্তির আবার যে বিষয়ে আগ্রহ প্রবল তাহার তাহাতেই অধিক লাভ বোধ। সুতরাং যাঁহারা পান, ভোজন, অপত্যোৎপাদন ও তৎপরে মৃত্যু—ইহার উপর আর উঠিতে পারেন না, তাঁহাদের হৃদয়ে উচ্চতর বিষয়ের জন্ম সামান্য ব্যাকুলতা পর্য্যন্ত জন্মিতে অনেক জন্ম লাগিবে। যাঁহাদের চক্ষে কিন্তু আত্মার উন্নতিসাধন ঐতিক জীবনের ক্ষণিক সুখাপেক্ষা গুরুতর বোধ হয়, যাঁহাদের চক্ষে ইন্দ্রিয়-পরিতৃপ্তি কেবল অবোধ শিশুর ক্রিড়াপ্রায় বোধ হয়, তাঁহাদের নিকট ভগবান্‌ ও ভগবৎ-প্রেমই মানবজীবনের সর্ব্বোচ্চ ও একমাত্র প্রয়োজন বলিয়া বিবেচিত হয়। ঈশ্বরেচ্ছায় এই ঘোর ভোগলিপ্সাপূর্ণ জগতে এখনও এইরূপ মহাত্মা বিরল নহেন।...ভক্তি পরা ও গৌণী এই দুই ভাগে বিভক্ত। গৌণী অর্থ সাধন ভক্তি, পরাভক্তি উহারই পরিপক্কাবস্থা। ক্রমশঃ বুঝিতে পারিব, এই ভক্তিমার্গে অগ্রসর হইতে হইলে সাধনাবস্থার কতকগুলি বাহ্য সহায় না লইলে চলে না। বাস্তবিক সকল ধর্ম্মের পৌরাণিক ও রূপক ভাগই আপনাআপনি আসিয়া থাকে ও প্রথমাবস্থার উন্নতিকামী আত্মাকে ভগবানের দিকে অগ্রসর হইতে সাহায্য করে। 
স্বামী বিবেকানন্দের ‘ভক্তিযোগ’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ