নয়াদিল্লি: এসআইআর প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারের উপর সার্জিক্যাল স্টাইক। এভাষাতেই ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় তুললেন সিপিআইএম লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। রবিবার রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া শিবিরের সভায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে একযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। সভায় হাজির ছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম কে বেবি। বিরোধী শিবিরের কর্মসূচিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এদিনের সভা থেকে বিজেপি ও আরএসএসকে নিশানা করেছেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা। তিনি বলেন, ভারতের সব মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। তার প্রতীক হল ভোটাধিকার। কিন্তু, সেই অধিকার আমাদের থেকে কেড়ে নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে। এই দেশ মুসলিমদের। এই দেশ মহিলা, দলিত, আদিবাসী, গরিব শ্রমিকদের। কিন্তু, বারবার তাঁদের লাইনে দাঁড় করিয়ে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে। এরপরই বিজেপি ও আরএসএসকে কাঠগড়ায় তুলে নেহা বলেন, যারা দীর্ঘদিন নিজেদের দপ্তরে জাতীয় পতাকা তুলত না, তারাই এখন দেশের জনগণের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইছে?
এদিন সভামঞ্চ থেকে দীপঙ্কর বলেন, মানুষের ভোটদানের অধিকার কেড়ে নিতে এসআইআরকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। দেশবাসী এখন সেটা বুঝতে পারছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়া আসলে সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকারের উপর সার্জিকাল স্টাইক। সবটা করছে মোদি সরকারই। তাঁর হুঁশিয়ারি, ভোটাধিকার রক্ষায় এই আন্দোলন চলবে। সংবিধান প্রণেতা বাবাসাহেব আম্বেদকর আমাদের সকলকে ভোটের অধিকার দিয়েছেন। আমরা তা কেড়ে নিতে দেব না। ভোটদান ও প্রতিবাদ— আমাদের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। বিজেপি আমলে এই দুই-ই আক্রমণের মুখে। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, রামলীলা ময়দান থেকে বহু বার নতুন করে ইতিহাস লেখা হয়েছে। আজ আমরা তেমনই এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। বাংলা ও বিহারের মানুষ ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগী। তাই এবার সকলকে একত্র হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তাঁর পরেই ভাষণ দিতে ওঠেন বেবি। তিনি বলেন, আজকের পরিস্থিতি দেশের জন্য দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম। যিনি ভোট চুরি করেছেন, সেই জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতেই হবে। বেবির কথায়, স্বাধীনতা সংগ্রামে মহাত্মা গান্ধী সত্যের পথ অনুসরণ করেছিলেন, ‘আর এখন নরেন্দ্র মোদি মিথ্যাচারকে অস্ত্র করেছেন। ফ্যাসিস্ট আরএসএসের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে এটি দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন। আমরা এখানে জনসমুদ্র দেখতে পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সকলে একটা কথাই বলছেন—আপনাদের কৌশল আর এদেশে চলবে না।’



