নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: অসাধু উপায়ে টাকা কামানোর হাতছানি। লোভে পড়ে তাতে সাড়া দিয়ে সাইবার অপরাধীদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিলেন দিনহাটা শহরের রংপুর রোডের বাসিন্দা মনিল কুমার রায়। স্বাস্থ্যবিমার ক্লেম বাবদ ১ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা পাইয়ে দেওয়ার টোপ ছিল সাইবার প্রতারকদের। সেই টোপ গিলেছিলেন মনিলবাবু। এরপর ক্লেম পাওয়ার জন্য প্রসেসিং ফি, সার্ভিস চার্জ সহ বিস্তর অছিলায় গত ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত মনিলবাবুর কাছ থেকে প্রতারকরা লুটে নিয়েছিল ৮৭ লক্ষ টাকা।
২০২৪’এর অক্টোবর মাসে দিনহাটা থানায় প্রতারিত মনিলবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শুরু করে সাইবার সেল। প্রায় এক বছর টানা তদন্ত চালানোর পর রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার মোহনপুর থানার দেবপুকুর এলাকা থেকে সাইবার প্রতারণা চক্রের অন্যতম চাঁই সঞ্জয়কুমার ধরকে গ্রেফতার করেছে দিনহাটা পুলিশ। ধৃতকে সোমবার কোচবিহার আদালতে তুলে পাঁচদিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। প্রতারণার এই চক্রে আর কারা কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।
তিনটি অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেনের নথি পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, এর আগে ২০২২ সালে দিনহাটার পরিতোষচন্দ্র পাল নামে অপর এক ব্যক্তিকে বিমার ৬ লক্ষ টাকার ক্লেম পাইয়ে দেওয়ার নামে ৩ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা লুটে নিয়েছিল এই সঞ্জয়ই। সেই মামলারও তদন্তে চালাচ্ছে দিনহাটা সাইবার পুলিশ। ২০২২ সালের আগস্ট মাসের সেই মামলা কোচবিহারের বিভিন্ন প্রান্তে সাইবার প্রতারকদের তরফে নানা ‘লোভনীয় প্রস্তাব’ পাচ্ছেন অনেকেই। তাই অসাধু উপায়ে টাকা কামানোর লোভ এড়িয়ে চলার জন্য সবাইকে পরামর্শ দিয়েছে কোচবার সাইবার পুলিশ।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্যবিমা করার পর ২০২০ সালের জুলাই মাসে মনিলবাবুকে ফোন করে রাজীব সাহা নামে এক ব্যক্তি। দিনহাটার বাসিন্দার কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি বিমার ক্লেম পেতে আগ্রহী কি না? মনিলবাবু রাজি হতেই তৎপর হয় প্রতারকরা। তাঁকে বলা হয়, ক্লেম বাবদ তিনি পাবেন ১ কোটি ২৯ লক্ষ ৪৩,৮৫০ টাকা। ক্লেমের টাকা পেতে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে কখনও আইএমপিএস, কখনও এনইএফটি, কখনও আরটিজিএস আবার কখনও নগদে ৮৬ লক্ষ ৯৯,১৮৪ দেওয়ার পর মনিলবাবু বোঝেন, তিনি প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন। তারপরই ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
কোচবিহারের পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য বলেন, এই মামলার তদন্তে নেমে উত্তর ২৪ পরগনার মোহনপুর থানার দেবপুকুর থেকে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, প্রতারণার কাজে তার প্যান কার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। ধৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে একসময়ে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত ছিল। তাকে জেরা করে চক্রের বাকিদের খোঁজ চলছে। নিজস্ব চিত্র।