নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: অবশেষে মেদিনীপুর সাংগঠনিক বিজেপির জেলা কমিটি ঘোষণা করা হল। সেই তালিকায় দিলীপ ঘনিষ্ঠদেরই আধিপত্য। এমনই অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন জেলা বিজেপির একাংশ। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতেই সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় জেলা সভাপতি সহ ২৫ জনের নাম রয়েছে। তার মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ৭ জন, জেনারেল সেক্রেটারি পদে ৪ জন, সেক্রেটারি পদে ৮ জন রয়েছেন। এছাড়াও কোষাধ্যক্ষ, অফিশিয়াল সেক্রেটারি, মিডিয়া, আইটি ও সোশ্যাল মিডিয়া পদে একজন করে বসছেন। বিজেপির নেতাদের একাংশের কথায়, দিলীপ ঘনিষ্ঠ নযন এমন একাধিক বিজেপি নেতা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদ পাননি। কিছু দিলীপ ঘনিষ্ঠ নেতাকে বেছে বেছে দলে নেওয়া হয়েছে। এতে সংগঠন মজবুত হওয়ার বদলে আরও দুর্বল হবে।
বিজেপির জেলা সভাপতি শমিতকুমার মণ্ডল বলেন, জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া জেলার হাতে থাকে না। বিজেপিতে নিয়ম মেনে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দলের সংগঠন আরও মজবুত হবে। আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। তৃণমূল এবারে হারবেই। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন গৌরীশঙ্কর অধিকারী। তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এদিন গৌরীশঙ্করবাবু বলেন, দল চাইছে জেলার সবক’টি বিধানসভায় জয় পেতে। তাই আমাদের থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের পদ দেওয়া হয়েছে। এতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকছে। দলের ভালো হোক। প্রসঙ্গত, একসময় জেলাজুড়েই গেরুয়া আধিপত্য বাড়তে শুরু করে। বিভিন্ন এলাকায় গজিয়ে ওঠে পার্টি অফিস। সেই সময়ে বিজেপি কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক কর্মী সমর্থক থাকতেন। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে পরপর একাধিক ভোটে হার গেরুয়া বাহিনীর মনোবলে ধাক্কা দিয়েছে। তার সঙ্গে গোষ্ঠী কোন্দল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ এই জেলার সংগঠন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা নেতাদের প্রাধান্য বাড়তে শুরু করে। এরফলে গোষ্ঠী কোন্দল চরমে ওঠে। যা আজও রয়েছে। এক বিজেপি নেতার কথায়, দিলীপ ঘোষকে অনেক নেতাই পছন্দ করছেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও দিলীপবাবু ঘনিষ্ঠ শমিতবাবুকে জেলা সভাপতি করা হয়। এরপর জেলা কমিটিতেও দিলীপবাবুর ঘনিষ্ঠরা জায়গা করে নিয়েছেন। যাঁরা দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছেন, তাঁদের মধ্যেও কয়েকজন পদ পেয়েছেন। তবে দিলীপ ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, নতুন জেলা সভাপতিকে অনেকেই কোনও সহযোগিতা করছে না। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ উচ্চ নেতৃত্ব। তৃণমূল থেকে আসা কোনও নেতার আধিপত্য মেনে নেওয়া যাবে না। অনেক নেতা দলবিরোধী কাজে যুক্ত। তাদের সম্পর্কে নানা তথ্য দলের কাছে এসেছে। বিজেপি নেতা দেবগোপাল বেরা বলেন, বিজেপিতে আগে পদে ছিলাম। বহু দিন বাদে ফের দল পদ দিয়েছে। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, এটা বিজেপির আভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে এবারে একটা আসনও বিজেপি পাবে না।