সুবর্ণরেখা ও কংসাবতীর ভাঙন রোধ ও হাতির হানা ঠেকাতে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিলীপের
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: সুবর্ণরেখা ও কংসাবতী নদীর পাড় ভাঙন চলছেই। কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ জমি ও ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসছেন। হাতির হানায়ও অতিষ্ঠ জেলার জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মঙ্গলবার ঝাড়গ্রাম জেলা আদালতে একটি পুরনো মামলায় হাজিরা দিয়ে জেলা পরিষদে যান। সেখানে বৈঠকে জেলার নদীভাঙন রোধে প্রকল্প তৈরি ও হাতির সমস্যা মোকাবিলায় পরিখা খননের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম জেলার উত্তর-পূর্ব দিকে কংসাবতী নদী বয়ে গিয়েছে। জেলার পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুবর্ণরেখা নদী। ঝাড়খণ্ডের গালুডি জলাধার থেকে জল ছাড়া হলে সুবর্ণরেখার জলস্তর বেড়ে যায়। জলস্রোত বাড়লে নদীর পাড় ভাঙে। সম্প্রতি মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে জল ছাড়ায় কংসাবতী নদীর উপর একাধিক বাঁশের সাঁকো ভেঙে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক কালভার্ট ও কজওয়ে। নদীর পাড় ভাঙন জেলার বড়ো সমস্যা হয়ে উঠেছে। নয়াগ্রাম ব্লকের শুকদেবপুর থেকে যাদবপুর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় ক্রমাগত নদীর পাড় ধসে পড়ছে। ভাঙনের জেরে শুকদেবপুর গ্রাম সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মন্ত্রীর নিজের গ্রামের নিকটবর্তী মালিঞ্চা গ্রাম নদীর গ্রাসে যাওয়ার মুখে। শুকদেবপুর, কলমাপুকুরিয়া ও নরসিংহপুর গ্ৰামের বাসিন্দারা নদীর পাড় বাঁধানোর দাবি তুলছেন। শুকদেবপুরের বাসিন্দা আনন্দ রাউত বলেন, নদী ক্রমশ জনবসতির দিকে এগিয়ে আসছে। ইতিমধ্যেই প্রায় পাঁচ বিঘা জমি নদীর গ্রাসে চলে গিয়েছে। দ্রুত পাড় বাঁধানো না হলে বাকি জমিটুকুও রক্ষা করা যাবে না। 
অন্যদিকে, কংসাবতী নদীর ভাঙনে বৈতা এলাকায় বহু কৃষিজমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। বিনপুর-১ ব্লকের নয়াপাল, মাইতিপাড়া ও বড়কোলা এলাকায় নদীর পাড় ভাঙছে। বিগত সরকারের আমলে পায়াড়াগুড়ি এলাকায় পাড় বাঁধানোর কাজ হয়েছিল। তবে অন্যান্য এলাকায় কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। দিলীপবাবু এদিন জেলা আদালত থেকে বেরিয়ে জেলা পরিষদ দপ্তরে যান। সেখানে জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরী তালধি ও জেলা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে ঝাড়গ্রামের নদীভাঙন ও হাতির সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন দিলীপবাবু। জেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ কমল মাহাত বলেন, সুবর্ণরেখা ও কংসাবতী নদীর পাড় ভাঙন রোধে পঞ্চায়েতমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। তিনি ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প তৈরি করে দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি হাতির সমস্যা মোকাবিলায় ভিবি জি রামজি প্রকল্পের মাধ্যমে পরিখা খননের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছেন।  খড়্গপুরে চা চক্রে দিলীপ ঘোষ। নিজস্ব চিত্র