সংবাদদাতা, খড়্গপুর: তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভায় অনাস্থা আনা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মুখে ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করলেও, অনাস্থা-ইস্যুতে দিলীপবাবু যে ঋতব্রত-তৃণমূলের প্রদীপ সরকারের পাশে নেই, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। প্রদীপবাবু সহ বিদ্রোহী তৃণমূল কাউন্সিলারদের শুক্রবার রীতিমতো ধুয়ে দেন রাজ্যের দাপুটে এই মন্ত্রী। এদিন সকালে খড়্গপুরে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল কাউন্সিলারদের কাছে এখন উন্নয়ন নয়, মানুষের সুযোগ-সুবিধা নয়, ক্ষমতা আর অর্থ সংগ্রহ করাটাই বড় হয়ে উঠেছে। পুরভোটের আগে পয়সা কামাতে ব্যস্ত সকলেই। শহরের পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে, সেদিকে কোনো লক্ষ্য নেই।’ পঞ্চায়েত ভোটের আগে তিনি যে মমতাপন্থী তৃণমূলের কল্যাণী ঘোষের নেতৃত্বাধীন পুরবোর্ডও ফেলে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না, তাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী।
খড়্গপুর সদরের বিধায়কে মতে, ‘এখানে তৃণমূলের বোর্ড চলছে। মানুষ তাদের সমর্থন করেছিল। তবে, পাঁচ বছর একটা বোর্ড চালাতে পারছে না! এর আগে যিনি (প্রদীপ সরকার) চেয়ারম্যান ছিলেন, তাকে পার্টি সরিয়েছিল। আর এখন যিনি (কল্যাণী ঘোষ) চেয়ারম্যান আছেন, তার বিরুদ্ধে পার্টির লোকই অনস্থা নিয়ে এসেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। খড়্গপুরের বহু মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনা পাচ্ছেন না বলে আমার কাছে অভিযোগ করছেন। এখন এসব না দেখে, নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি করছে। দু’দিন পরে এখানে নির্বাচন হবে। তখন এদের বিসর্জন হবে।’ খড়্গপুর পুরভায় আস্থা ভোট নিয়ে প্রশাসনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানিয়েছেন দিলীপবাবু। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের বোর্ড নেই। তাই আমাদের মাথাব্যথাও নেই। এখানে যাঁরা প্রশাসক আছেন, তাঁরাই ঠিক করবেন, কি করা উচিত।’
গত ৯ সেপ্টেম্বর, পুর চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা-প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন তৃণমূলেরই ১৫ জন কাউন্সিলার। নেতৃত্বে ছিলেন ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রদীপ সরকার। চলতি সপ্তাহের সোমবার আবার তৃণমূলের ওই বিদ্রোহী কাউন্সিলারদের মধ্যে ৬ জনের কাউন্সিলার পদ খারিজের দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেন বিজেপির কাউন্সিলরারা। এদিন বিজেপি কাউন্সিলরাদের সমর্থন জানিয়ে দিলীপবাবু বলেন, ‘অনেকেই দলবদলের যে আইন আছে, তার বিরুদ্ধে গিয়েছেন। প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রদীপবাবুও দল পাল্টেছেন। তাঁদের কাউন্সিলার পদ যাওয়াই উচিত। আমাদের কাউন্সিলাররা সেই দাবি তুলেছেন। তাঁদের সেই অধিকারও আছে।’ পাল্টা প্রদীপবাবু এদিন বলেন, ‘আমি দল পাল্টাইনি। আর আমরা খড়্গপুর শহরের উন্নয়নের স্বার্থেই কাউন্সিলার হিসেবে চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলাম। দিলীপবাবুকে নিশ্চয়ই কেউ ভুল বোঝাচ্ছেন।’ ৩৫ আসন বিশিষ্ট খড়্গপুর পুরসভায় তৃণমূলের ২৪ জন কাউন্সিলার। বিজেপির ৬ জন এবং কংগ্রেস-সিপিএমের ৫ জন কাউন্সিলার। রাজনৈতিক মহলের মতে, পুরসভার ভবিষ্যৎ কোন পথে পরিচালিত হবে, তা হয়তো আগামী কয়েকদিনেই বোঝা যাবে। তবে তার আগে এদিন দিলীপবাবুর ক্ষোভ অনেককিছুই স্পষ্ট করে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। খড়গপুর স্টেশন সংলগ্ন বোগদা এলাকায় চা চক্রে দিলীপ ঘোষ।-নিজস্ব চিত্র