সংবাদদাতা, খড়্গপুর: এবার আর ভুল করেনি দল। নিজের ‘গড়’ খড়্গপুরেই দিলীপ ঘোষকে টিকিট দিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। আর সুযোগ পেয়েই দুইয়ে দুইয়ে চার করলেন বঙ্গ-বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। এর আগে ২০১৬ সালে রেলশহরে প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়েই তিনি ‘ইন্দ্রপতন’ ঘটান। কংগ্রেসের জ্ঞান সিং সোহনপালকে পরাজিত করেন প্রায় সাড়ে ছ’হাজার ভোটে। আর এবার তৃণমূলের প্রদীপ সরকারকে ৩০ হাজার ৫০৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করলেন বিজেপির এই ডাকাবুকো নেতা। জয়ী হয়েই সোমবার রাতে বুলডোজারের উপর উঠে তিনি জয় উদ্যাপন করেন দিলীপবাবু।
মঙ্গলবার সাত সকালেও নিজের চেনা মেজাজেই ধরা দেন তিনি। খড়্গপুরের বোগদায় চা-চক্রে বসে তিনি বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন সফল করার জন্য আমাদের ৩০০ কর্মী বলিদান দিয়েছেন। এই জয় সেই কর্মীদের ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কেই উৎসর্গ করছি। সেইসঙ্গেই শ্যামাপ্রসাদবাবুর একেকটা স্বপ্ন সফল করছেন মোদিজি। টিকিট না পাওয়ায়, দলীয় নেতৃত্বের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন দিলীপবাবুর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। নিজের জয় তাই স্ত্রীকে ‘উপহার’ দিচ্ছেন কিনা জিজ্ঞেস করা হলে দিলীপবাবু বলেন, ‘এই জয় উপহার দেব খড়্গপুরের জনতাকে। যাঁরা আমাকে জিতিয়েছেন। তাছাড়া আমি কাউকে কোন উপহার দিই না। নিইও না। তবে, অনেক পার্টিকর্মী অবশ্য ভালোবেসে জামাকাপড় উপহার দেন।’
এরপরই মন্ত্রীত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা দিলীপাবাবু সরাসরি তা এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভা কবে হবে আমি জানি না। পার্টি আমাকে টিকিট দিয়েছিল এমএলএ হওয়ার জন্য। আমি এমএলএ হয়ে পার্টির সম্মান রেখেছি। পরিবর্তনের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপবাবু বলেন, পার্টি যাকে ঠিক করবে। কিন্তু, আপানার স্ত্রী তো আপনাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান! রসিকতা করে দিলীপবাবু বলেন, সেটা ওকেই জিজ্ঞেস করুন। মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাইছে, না স্বামী হিসেবে! ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। গোটা বাংলাতেও এবার শুভেন্দু-শমীক জুটি কেল্লাফতে করেছে। তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করায় দিলীপবাবু বলেন, ‘আমি এখনো সময় পাইনি। তৃণমূলের বারবার অভিযোগের কারণে দেরি করে গণনা শেষ হয়। রাত্রি সাড়ে ১১টায় শংসাপত্র পেয়েছি।’ তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার এদিন বলেন, জয়ের জন্য দিলীপবাবুকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আশা রাখব, খড়্গপুরের উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন। সেইসঙ্গেই দিলীপবাবুর উদ্দেশ্যে খড়্গপুরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করার আবেদনও জানিয়েছেন প্রদীপবাবু।