সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: কাছারি বাড়ি গমগম। লাল পাগড়ি, হাতে লাঠি, কোমরবন্ধ পরে দাঁড়িয়ে প্রহরী। প্রচুর টাকাপয়সার বিষয়। পাহারা কম রাখা যাবে না। সারি পাতা চৌকি। সামনে ধুতি-পিরান পরে বসে নায়েবরা। বাক্সটেবিল পাতা। তার ভিতর ডাঁই করে রাখা কাগজের টাকা, মুদ্রা। জমা হয়েই চলছে। রায়চৌধুরীদের জমিদার বাড়িতে চলছে খাজনা আদায়। সে এককালের কথা। তখন বিস্তর বোলবোলা। বারুইপুরের রাসমাঠের জমিদার বাড়ির কাছারি থাকত জমজমাট। এখন ফাঁকা থাকে। তবে টাকাপয়সা এখনও আদায় হয়।
জমিদার বাড়ির দেওয়ালের পলেস্তারা খসছে। ছাদের কড়িবরগা হাড় জিরজিরে। নায়েব নেই। জমিদার পরিবারের সদস্য অমিয়কৃষ্ণ রায়চৌধুরী শুধু নিয়ম করে বসেন। প্রহরী নেই। এখন সকালবিকেল হাটুরেরা আসে। দোকান ভাড়ার টাকা দিয়ে চলে যায়। রোজ বাক্সটেবিল খোলেন অমিয়বাবু। পাওনার যৎসামান্য টাকা জমা পড়ে শ-দুশো বছরের প্রাচীন সেই বাক্সটেবিলে। অমিয়বাবু বলেন, ‘যে কোনওদিন দেওয়াল ভেঙে পড়তে পারে। জমিদারি চলে গিয়েছে তাই কাছারি বাড়ি নিয়ে আগ্রহও নেই পরিবারের সদস্যদের। এইভাবেই চলছে। আমি ঐতিহ্য রক্ষা করার চেষ্টা করছি।’ জমিদার রাজবল্লভ রায়চৌধুরী এই জমিদারির পত্তন করেছিলেন। সে আমলে বাজার, জমিজমার পরিমাণের ইয়ত্তা ছিল না। প্রজারা দলে দলে আসত। নায়েবদের খাজনা দিতেন, সমস্যার কথা তুলে ধরতেন। তারপর তা জানানো হতো জমিদারদের। প্রয়োজন পড়লে কদাচিত হস্তক্ষেপ করতেন জমিদার। অমিয়বাবু জানান, এখনও রায়চৌধুরীদের হাতে গোটা পাঁচেক বাজার আছে। দোকানদাররা আসেন সমস্যা নিয়ে। টাকাপয়সাও জমা করেন। আগে ১২-১৩টি বাজার দেখাশোনা করতে হতো। প্রচুর কর্মচারী ছিল। এখন ৪-৫ জন মাত্র রয়েছেন। তাঁরাই দেখাশোনার কাজ করেন। এখনও রাস উৎসব, রথযাত্রা হয়। রায়চৌধুরী এস্টেট পরিচালনা করে। তবে জমিদারি প্রথা বিলোপের পর রমরমা কমেছে। এখন পলেস্তারা খসছে। সে বোলবোলার কিছুই নেই।