নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গ্রামীণ এলাকার পড়ুয়াদের ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থায় অভ্যস্ত করে তুলতে উদ্যোগী জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতি। পঞ্চায়েত সমিতির তরফে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় থাকা বড় প্রাথমিক স্কুলগুলিতে তৈরি করা হচ্ছে ডিজিটাল ক্লাসরুম। সম্প্রতি উন্নয়নমূলক কাজের নিরিখে জেলার মধ্যে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে এই পঞ্চায়েত সমিতি। পুরস্কার মূল্যের টাকায় বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে বেসরকারি প্রি-স্কুলের ধাঁচে ক্লাসরুম তৈরি করা হবে।
হাওড়ার জগৎবল্লভপুর ব্লকের অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতেই মূলত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বাসিন্দাদের বাস। কৃষিনির্ভর এই ব্লকে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটালের ছোঁয়া দিতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি। ইতিমধ্যেই পাতিহাল পঞ্চায়েতের শিবানন্দবাটি প্রাইমারি স্কুল ও হাঁটাল পঞ্চায়েতের হাঁটাল ধীরেন্দ্রনাথ প্রাথমিক স্কুলে তৈরি করা হয়েছে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ক্লাসরুম। এক একটি ক্লাস রুম তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় তিন লক্ষ টাকা। ক্লাসরুমে ডিজিটাল বোর্ড, বসার জন্য নতুন ধরনের বেঞ্চের পাশাপাশি ই-লার্নিংয়ের সুবিধা পাবে পড়ুয়ারা। গোটা ক্লাসরুমকে সাজানো হয়েছে শিশুমনের কল্পনার উপর নির্ভর করে। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাইমারি স্কুলের পাশাপাশি ব্লকের দু’টি বড় হাই স্কুল অর্থাৎ জগৎবল্লভপুর হাই স্কুল ও চিন্তামণি বিদ্যালয়েও ডিজিটাল ক্লাসরুম তৈরি করা হবে। খরচ পড়বে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা করে। ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।
শুধু পঞ্চায়েত সমিতির নিজস্ব তহবিল থেকেই নয়, ভালো কাজের নিরিখে যে পুরস্কার পেয়েছে, সেই টাকায় গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিকর ছোঁয়া দিতে উদ্যোগী হয়েছে জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতি। গত বছর জেলায় কাজের নিরিখে দ্বিতীয় স্থান দখল করায় এই পঞ্চায়েত সমিতি পুরস্কার মূল্য বাবদ চার লক্ষ টাকা পেয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রঞ্জন কুণ্ডু বলেন, ‘অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারগুলিতে আধুনিক প্লে-স্কুলের মতো ক্লাসরুম তৈরি করা হবে। শহরের খুদেদের মতো গ্রামের কচিকাঁচারাও এবার নিয়মানুবর্তিতা, টেবিল ম্যানার্সের মতো ব্যবহারিক শিক্ষা পাবে।’ জানা গিয়েছে, ব্লকের ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এমন ক্লাসরুম তৈরি হবে। সেগুলিকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে।