


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করেছেন আপনি। ভারত নিয়ে বিভিন্ন কমেন্টও করেছেন সেখানে। সমস্ত তথ্য ধরা পড়েছে পুলিসের রাডারে। দেশের কোনও গোপন তথ্য আপনি বাংলাদেশে পাচার করছেন কি না, জানতে আপনাকে জেরা করা হবে। পুলিস আপনাকে অনলাইনে জেরা করবে।’
আচমকা কেউ ফোন করে গম্ভীর গলায় কথাগুলি বললে আপনার মনে হতেই পারে, গুরুতর কোনও অভিযোগে ফেঁসে গিয়েছেন আপনি। আদতে সবটাই ভুয়ো! সাইবার প্রতারকদের সৌজন্যে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ ভোল বদল করে হয়েছে ‘অনলাইন জেরা’! সাইবার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লাগাতার প্রচারের ফলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। তাই লোক ঠকানোর কৌশল বদলে ফেলেছে প্রতারকরা। তাদের নতুন ‘মোডাস অপারেন্ডি’ হল অনলাইন জেরা। ইতিমধ্যে কলকাতা পুলিসের সাইবার থানা সহ একাধিক ডিভিশনের সাইবার সেলে অনলাইন জেরার কথা বলে প্রতারণার বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। সাইবার বিভাগ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত এমন ন’টি অভিযোগ সামনে এসেছে। নয়া কায়দার এই প্রতারণা রুখতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতা প্রচার শুরু করেছে পুলিস।
সাইবার বিভাগ জানাচ্ছে, এই ‘অনলাইন জেরা’ আসলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এরই নয়া রূপ। ল্যান্ডলাইন নম্বর থেকে ফোন আসছে সাধারণ মানুষের কাছে। স্থানীয় থানার সাব ইনসপেক্টর পরিচয় দিয়ে প্রতারক ফোনে বলছে, ‘পাক চর সন্দেহে আপনার বিরুদ্ধে একাধিক তথ্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এসেছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে স্থানীয় থানাকে। সোশ্যাল মিডিয়ার সাইটে বাংলাদেশের বিভিন্ন ভিডিও, ওয়েব সিরিজের অংশ আপনি দেখেছেন। সেখান থেকেই কিছু প্রোফাইলে আপনাকে কমেন্ট করতে দেখা গিয়েছে।’ সাইবার বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, ‘ওয়েব সিরিজ দেখতে পছন্দ করেন, এমন অনেকেই এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন নাটক দেখেন। তাই এটাকেই টার্গেট করছে প্রতারকরা।’
তথ্য যাচাইয়ের অছিলায় মোবাইল নম্বর, প্যান কার্ড ও আধার কার্ডের তথ্য চাইছে প্রতারকরা। পাক চর সম্পর্কে তথ্য যাচাইয়ের কথা শুনেই অনেকে ঘাবড়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ দিয়েও ফেলছেন যাবতীয় তথ্য। রিজেন্ট পার্ক এলাকার এক অভিযোগকারী পুলিসকে জানিয়েছেন, সব তথ্য দেওয়ার পর তাঁকে ফোন ‘হোল্ড’ করতে বলে ভেকধারী ওই পুলিস। কিছুক্ষণের মধ্যে অভিযোগকারীর ফোনে একটি ওটিপি আসে। তারপর তাঁকে বলা হয়, ‘তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে। আপনার তথ্য আমাদের সার্ভারে যোগ করার জন্য আপনার কাছে একটি ওটিপি গিয়েছে। সেটি একটু আমাদের বলুন।’ এরপরই কয়েক ধাপে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা অভিযোগকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যায়।
লালবাজারের সাইবার বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘মানুষকে নতুনভাবে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে কলকাতা পুলিসের পরিচয় দিয়ে। একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ওটিপি আসেনি, অথচ টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে, এমন ঘটনাও সামনে এসেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন থানা এলাকায় সচেতনতামূলক পোস্টার সাঁটা হয়েছে।’