


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ফের ডিজিটাল অ্যারেস্ট। এবার এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ৩৫ লক্ষ টাকা খোয়ালেন ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটির এক প্রাক্তন উপাচার্য। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে তিনি কার্যত ‘গৃহবন্দি’ হয়েছিলেন। গ্রেপ্তারির ভয়, সুপ্রিম কোর্টের ভুয়ো নথি এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দিয়ে প্রতারকরা টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। টাকা পাঠানোর পর তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সোমবার তিনি সল্টলেকে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে তিনি একাধিক কল পান। প্রথমে বেঙ্গালুরুর সাইবার ক্রাইম দপ্তর থেকে পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে প্রতারকরা তাঁকে ফোন করেন। তাঁকে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। তারপরই তাঁকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়। তাঁকে অভিযুক্ত করা হয় সদাকাত খান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ থাকায়। উল্লেখ্য, সদাকাত খানকে গত বছর কম্বোডিয়া থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রতারকরা তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের ভুয়ো নথিপত্রও দেখায়। তাতে ভয় পেয়ে যান প্রাক্তন উপাচার্য। কারণ, ওই নথিতে তাঁর আধার নম্বরও ছিল।
ওই নোটিসে বলা হয়, একদিনের মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে অধীনে হেপাজতে নেওয়া হবে। এর ফলে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি যতদিন না পর্যন্ত তদন্ত শেষ হয় বাজেয়াপ্ত হতে পারে। তারপর প্রতারকরা যোগাযোগ রাখতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা অন্তর তাঁর অবস্থান জানতে চাইছিল তারা। তারপরই প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে তিনি কয়েক দফায় ৩৫ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেন। পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, ডিজিটাল অ্যারেস্ট নিয়ে লাগাতার সচেতন করা হচ্ছে। কিন্তু, তারপরেও বহু মানুষ এই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বাস্তবে ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কোনও অ্যারেস্টই নেই।