পেনশন না বাড়ালে বেঁচে থাকা কঠিন, মোদিকে চিঠি লিখছেন ১ লক্ষ প্রবীণ
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিএফের আওতায় যে কর্মচারী পেনশন প্রকল্প (ইপিএস) আছেন, সেখানে ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন করে চলেছেন দেশের লক্ষ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এই পেনশন আটকে রয়েছে মাসে মাত্র এক হাজার টাকায়। নরেন্দ্র মোদি জমানায় ১২ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রবীণদের প্রশ্ন, এক হাজার টাকায় আজকের বাজারে ওষুধ কেনা যায় না, সংসার চলবে কীভাবে? এই প্রশ্নের জবাব চেয়ে, ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে এবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখছেন প্রবীণরা। দিনকয়েকের মধ্যেই ন্যূনতম এক লক্ষ চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা তাঁদের। এরই সঙ্গে দেশজুড়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন কর্মসূচিও রয়েছে তাঁদের।

Advertisement

ইপিএস-৯৫ প্রকল্পের আওতাভুক্ত পেনশনভোগীদের সর্বভারতীয় সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটির নেতৃত্বে দেশজুড়ে এই আন্দোলন চলছে। সংগঠনের দাবি, প্রায় ৮১ লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। তাঁদের মূল দাবি তিনটি। প্রথমত, ন্যূনতম পেনশন এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে সাত হাজার টাকা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তার সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা যুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক/কর্মী এবং তাঁর স্বামী বা স্ত্রীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দিতে হবে। 
পেনশনভোগীদের আরও আরজি, যাঁরা উচ্চহারে পেনশনের জন্য অবেদন করেছেন, উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী তাঁদের বেশি হারে পেনশনের সুবিধা দিতে হবে। গত ৯ মার্চ থেকে যন্তর-মন্তরে তিনদিনের ধরনা, ৫ আগস্ট দেশজুড়ে বিক্ষোভ—একের পর এক কর্মসূচি করেছেন প্রবীণরা। বারবার স্মারকলিপি দিয়ে এবং শান্তিপূর্ণ মিছিল করে সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ। 
এদিকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও তাদের রিপোর্টে বলেছে, এক হাজার টাকা অতিসামান্য। মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার জন্য পেনশন বৃদ্ধি জরুরি। সংবিধানের ৪১ নম্বর ধারায় বার্ধক্যে রাষ্ট্রের সাহায্যের কথা বলা আছে, সেই কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে কমিটি। এই সংগঠনের রাজ্য শাখার সভাপতি তপন দত্ত বলেন, সর্বভারতীয় স্তরে আগামী ১৬-১৮ নভেম্বর ইপিএফও-র আঞ্চলিক অফিসগুলিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। আমরা ১৬ নভেম্বর জলপাইগুড়ি এবং সল্টলেকের অফিসের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছি। আশা করছি, বহু মানুষ আমাদের পাশে থাকবেন। 
পাশাপাশি এরাজ্যের প্রায় আট লক্ষ পেনশনভোগীর অনেকেই ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে দাবিদাওয়া জানাতে শুরু করেছেন। তপন দত্ত বলেন, বেশিরভাগ প্রবীণ ব্যক্তি ওই চিঠি লিখবেন বলে আমরা আশা করছি। আগামী ১৯ নভেম্বর গুজরাতের গিরে বসতে চলেছে পিএফের কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের বৈঠক। সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেখানেও আমরা কয়েক হাজার জন বিক্ষোভ কর্মসূচি করব। 
প্রসঙ্গত, এর আগে বেঙ্গালুরুতে অছি পরিষদের বৈঠককে ঘিরে ধরনা কর্মসূচির আয়োজন হয়েছিল। সেবার শেষমুহূর্তে সেই বৈঠক দিল্লিতে সরিয়ে নিয়ে যায় কেন্দ্র। এবারও বিক্ষোভের আঁচ পেয়ে বৈঠক গুজরাত থেকে সরতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্দোলনকারীরা।