সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: গায়ে উরুগুয়ের নেভি ব্লু প্র্যাকটিস জার্সি, পায়ে সাদা স্নিকার্স! দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকিয়ে নিলেন। কোঁচকানো লম্বা চুল ছড়িয়ে পড়ল কপালের দু’পাশে। চুলে এখন রুপোলি ছোঁয়া, খোঁচা খোঁচা দাড়িতেও তাই। বয়স হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ঝলমলে নীল চোখ এখনও অম্লান। মুখে সহজ, আন্তরিক হাসি। ২০১০ বিশ্বকাপে সোনার বল জয়ী ডিয়েগো ফোরলানের মেজাজে কোনো তারকাসুলভ দূরত্ব নেই, বরং রয়েছে বিনয়ের উষ্ণতা। বাইপাস সংলগ্ন হোটেলে বসে ভারতের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ, সুয়ারেজ-কাভানি পরবর্তী যুগ — সবকিছু নিয়ে সাক্ষাৎকারে অকপট উরুগুয়ের হেড কোচ।
প্রশ্ন: কলকাতার সঙ্গে উরুগুয়ের সম্পর্ক বেশ পুরানো। আপনি কি জানেন, ১৯৮২’র নেহরু কাপে ইডেন গার্ডেন্সে কিংবদন্তি এনজো ফ্রান্সিসকলির সিনিয়র দলে অভিষেক হয়েছিল?
ফোরলান: তাই নাকি! অবিশ্বাস্য। জানতামই না।
প্রশ্ন: ফ্রান্সিসকলির প্রসঙ্গ যখন উঠেছে, একটা প্রশ্ন না করে পারছি না। উরুগুয়ে রাফ অ্যান্ড টাফ ফুটবলের জন্য পরিচিত। কিন্তু আপনার সঙ্গে ফ্রান্সিসকলির খেলায় মিল ছিল। দু’জনেই স্কিলফুল। কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়েছিল আপনাকে?
ফোরলান: আমার পজিশনটা আলাদা ছিল। তবে উরুগুয়ের খেলা নিয়ে অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা আছে। ব্যাপারটা ঠিক ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ নয়। আমরা ম্যাচের শেষ পর্যন্ত লড়াই করি। অনেকে এর ভুল ব্যাখ্যা করেন।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপে সোনার বল জয়ী কিংবদন্তি আপনি। তবুও উরুগুয়ের স্থায়ী কোচ নন, অন্তবর্তীকালীন হিসাবে দায়িত্ব নিলেন কেন?
ফোরলান: প্রস্তাবটা এমনই ছিল তাই (হেসে)। ভবিষ্যতে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার সুযোগ আসে কিনা দেখা যাক।
প্রশ্ন: ভালো প্রাক্তন খেলোয়াড়রা কি দক্ষ কোচ হতে পারেন?
ফোরলান: গুয়ার্দিওলা, জিদান, দেশঁ, আনসেলোত্তি, জাভি, আলোন্সো— তালিকাটা কিন্তু বেশ লম্বা। আসল কখা হল অভিজ্ঞতা। প্লেয়িং কেরিয়ারে যা শিখেছেন, কোচ হয়ে তা কাজে লাগানো প্রয়োজন। পাশাপাশি এটাও বুঝতে হবে, ফুটবলারদের জন্য কোনটা ভালো আর কোনটা নয়।
প্রশ্ন: সুয়ারেজ ও কাভানির শূন্যস্থান পূরণ কতটা কঠিন?
ফোরলান: ওদের দু’জনের সঙ্গেই খেলার সুযোগ হয়েছে। অসাধারণ খেলোয়াড়। কিন্তু শূন্যস্থান কীভাবে পূরণ হবে, তা ভেবে লাভ নেই। কেউই চিরদিন থাকবে না। ওদের জায়গা ভরাট করতে হবে নুনেজদের।
প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন, ভারতের র্যাংকিং ১৩৮। ব্রাজিল, উরুগুয়ের মতো হেভিওয়েট দলের বিরুদ্ধে খেলে কতটা লাভ হবে?
ফোরলান: এত বড়ো দেশ, এত মানুষ। আমি যখন ভারতে খেলেছি তখন অনেক ভালো খেলোয়াড় দেখেছি। সুনীল (ছেত্রী) ছিল। উন্নতি করতে হলে ভালো মানের জাতীয় দলের বিরুদ্ধে খেলতে হবে, প্রতিযোগিতা দরকার। আমার মতে, এমন ম্যাচ ভারতীয় ফুটবলের পক্ষে অত্যন্ত ইতিবাচক।