Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিদি আমাদের দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন, ওরা শুধু ভয় দেখায়, ‘টুক করে গোল’ দেওয়ার আশায় বিজেপি

মার্চের প্রথম দিকে সংকল্প যাত্রার ‘ঘা’ এখনও দগদগে! মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে যে বেগতিক অবস্থা হয়েছিল, তা এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে পদ্ম শিবিরকে।

দিদি আমাদের দিকে মুখ তুলে  চেয়েছেন, ওরা শুধু ভয় দেখায়, ‘টুক করে গোল’ দেওয়ার আশায় বিজেপি
  • ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, উলুবেড়িয়া: মার্চের প্রথম দিকে সংকল্প যাত্রার ‘ঘা’ এখনও দগদগে! মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে যে বেগতিক অবস্থা হয়েছিল, তা এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে পদ্ম শিবিরকে। সেদিন পাত্রপোলের মাঠে সংকল্প যাত্রায় এসে বক্তৃতা করার কথা ছিল ডিস্কো ডান্সারের। সেই মতো আয়োজনও ছিল। কিন্তু ভিড় না হওয়ার কারণ দেখিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে মাঠে হাজির হননি মিঠুন। অথচ নির্ঘণ্ট অনুযায়ী সকাল ৯টায় মাঠে হাজির বেশ কিছু এলাকাবাসী। ঘণ্টা তিনেক অপেক্ষাতেও সুপারস্টার না আসায় প্রবল রোদ মাথায় রীতিমতো ক্ষোভ ছড়ায় দর্শকদের মধ্যে। তা বড়ো রকমের অশান্তির চেহারা নেয়। বিক্ষোভ শুরু হতেই বিজেপির নীচুতলার নেতারা প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন দলের কেষ্টবিষ্টুদের বিরুদ্ধে। মাইক ফুঁকে রীতিমতো গালিগালাজ করেন তাঁরা। মাঠ ছাড়ার আগে দলীয় টুপি মাথায় দিয়েই মহিলারা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘এর চেয়ে অনেক ভালো দিদি। তিনি কথা দিয়ে কথা রাখেন। এমন হেনস্তা করেন না।’ পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝে অবশেষে মঞ্চে আসেন মিঠুন। মিনিট দুয়েকের বক্তৃতায় তৃণমলের স্লোগান ধার করে বলেন, ‘খেলা হবে’। সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘টুক করে গোল দিয়ে দেব!’ 

Advertisement

এবারের বিধানসভা ভোটে উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রে ‘টুক করে গোলের’ আশায় বসে আছে বিজেপি। সেদিন মিঠুন চক্রবর্তীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সভায় যেভাবে বেআব্রু হয়ে গিয়েছিল দলীয় কোন্দল, তা পদ্ম শিবিরের তুমুল অন্তর্কলহের নমুনামাত্র। নানা গোষ্ঠীর চাওয়া-পাওয়া সামলে এবার এখানে বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ছেন চিরন বেরা। ২০২১ সালেও তিনি প্রার্থী ছিলেন বিজেপির। সেবার তৃণমূল প্রার্থী নির্মল মাজি তাঁকে হারিয়েছিলেন প্রায় ২১ হাজার ভোটে। এবার সেই ব্যবধান ঘুচবে বলে আশা করছে বিজেপি। জনসংযোগে রীতিমতো সাড়া ফেলেছেন চিরন। তৃণমূলের দুর্নীতিকেই ভোট বাড়ানোর হাতিয়ার করছেন তিনি। প্রতিটি দলীয় কর্মীকে তাঁর বার্তা, প্রচারে যেন কোনো বাড়ি বাদ না যায়। তিনি নিজে যেতে না পারলেও, দলকে সর্বত্র পৌঁছাতে হবে। গোষ্ঠীদন্দ্বের অভাব নেই তৃণমূলেও। সেসব পেছনে ফেলে রেকর্ড মার্জিনে জিততে চান উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বিমলকুমার দাস। তাঁর কথায়, ‘বিজেপি যেভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করে চলেছে, তাতে ওদের কর্মীরাও বিরক্ত। একই কথা প্রযোজ্য সিপিএম ও কংগ্রেস কর্মীদের ক্ষেত্রেও।’ এসআইআর নিয়ে যেভাবে বিএলএ টু হিসাবে তাঁরা সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিয়েছেন, তা এই ভোটে তৃণমূলকে বাড়তি ডিভিডেন্ড দেবে বলে দাবি বিমলবাবুর। ভোটে জিতে এলে আগামী পাঁচ বছরে কী কী করবেন, মানুষের সামনে তা তুলে ধরছেন তিনি। হাওড়া জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মস্থান মেলাইচণ্ডী মন্দিরের গেট ও অন্যান্য সংস্কারের পাশাপাশি সিটিসি বাস টার্মিনাসের দ্বিতীয় দফার কাজ শুরু করা, আমতা স্পোর্টিং মাঠের গ্যালারি তৈরি, আমতা শান্তিকানন শ্মশানের ইলেকট্রিক চুল্লি তৈরি, তুলসীবেড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংস্কার, এই বিধানসভা এলাকার ছটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যেকটিতে আলাদা করে শিশুদের খেলার জায়গা তৈরি, বৃন্দাবনপুর হাসপাতালের সংস্কার প্রভৃতি কাজে মন দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। এই বিধানসভার মানুষ কি এবারও তৃণমূলের দিকে থাকবে? রাজাপুর থানা এলাকার কমলাচকের গ্রামে কথা হচ্ছিল কৃষিজীবী গৌর মাকালের সঙ্গে। সামনের রাস্তা দেখিয়ে বললেন, ‘এই রাস্তা আগেই ছিল। মাস কয়েক আগে ফের নতুন করে তৈরি হয়েছে। আমাদের বাড়ির ছেলে যুবসাথী পাবে। তৃণমূলকে ছাড়া আর কাকে ভোট দেব?’ কাঞ্চনা সাহা পাশ থেকে বললেন, ‘দিদি মাথার উপর ছাদ দিয়েছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছেন। আগে তো কেউ দেয়নি। দিনি আমাদের দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন। তাই তো ইজ্জত নিয়ে বেঁচে আছি। ওরা তো শুধু ভয় দেখায়!’ ওরা কারা? জবাব এল, ‘কেন, পদ্মফুল!’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ