নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: ত্রাণের নামগন্ধ নেই। খালি হাতে কনভয় নিয়ে ডুয়ার্সে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে জনরোষের শিকার হলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। সোমবার নাগরাকাটার সুলকাপাড়ায় আসেন তাঁরা। গাড়ি থেকে নামতেই তাঁদের ঘিরে ধরেন দুর্গতরা। বিপর্যয়ের পর এত দেরিতে কেন এলেন? স্থানীয় বিজেপি নেতারাই বা কোথায় ছিলেন? এখন কি শুধুমাত্র ফোটোশ্যুট করার জন্য এসেছেন? এইসব প্রশ্ন তুলে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বাসিন্দারা। দুর্গতদের প্রশ্নের জবাব দিতে না পেরে গাড়ি ঘুরিয়ে বিজেপি নেতারা পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তখনই তাঁদের উপর আছড়ে পড়ে জনরোষ। ইট ছুড়তে থাকেন দুর্গত মানুষরা। তার আঘাতেই রক্তাক্ত হন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু। শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের গাড়ির কাচ ভেঙে দেয় উত্তেজিত জনতা। ক্ষোভের পারদ এমনই ছিল যে, শঙ্করকে জুতো ছুড়ে মারতে উদ্যত হন দুর্গতরা। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ কোনওমতে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এরপরই আক্রান্ত বিজেপি নেতারা তড়িঘড়ি গাড়ি নিয়ে এলাকা ছাড়েন। প্রথমে চালসায় সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করান তাঁরা। পরে চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। সুলকাপাড়ায় যখন বিজেপি নেতৃত্ব আক্রান্ত হন, তখন পাশেই বামনডাঙায় ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা ও নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা। এখানেই শেষ নয়। তুফানগঞ্জে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি উজ্জ্বলকান্তি বসাক এবং শিলিগুড়িতে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ও আক্রান্ত হয়েছেন। কুমারগ্রামে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ। এদিনের ঘটনায় তৃণমূলের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতৃত্বের। তা অস্বীকার করেছে তৃণমূল। বিষয়টি দিল্লি পর্যন্ত গড়িয়েছে। রাজ্যের থেকে এই ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এদিকে খগেন মুর্মুকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দিল্লি এইমসে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি।



