নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসএসকেএমে ভরতি কয়েকজন। কিন্তু কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়? নির্মীয়মাণ গুদামের গোটা ছাদ কীভাবে নীচের দু’টি ফ্লোরসমেত তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভূপতিত হল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। বুধবারই ঘটনাস্থলে যান কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বিল্ডিং প্ল্যান ছিল ত্রুটিপূর্ণ।
কিন্তু এত বড়ো লোহার কাঠামো কীভাবে দুমড়েমুচড়ে ভেঙে গেল, তা ভেবে চোখ কপালে উঠছে বিশেষজ্ঞদেরও। প্রাথমিক তদন্তের পর পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা জানাচ্ছেন, বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন নেওয়া হলেও সঠিক নিয়ম মেনে এই কাঠামো খাড়া করা হয়নি। প্রায় ৩৫ ফুট উঁচু কাঠামোয় লোহার বিমের যেসব পিলার ছিল, সেগুলি সব ক্ষেত্রে সঠিকভাবে বানানো হয়নি বলে অভিযোগ। এক ইঞ্জিনিয়ারের কথায়, ‘নির্মাণকাজে একাধিক ত্রুটি-বিচ্যুতি নজরে এসেছে। লোহার পিলার এবং ছাদের সংযোগস্থলে স্ক্রু থেকে শুরু করে ওয়েল্ডিং ঠিকমতো হয়নি। এমনকি লোহার পিলারের সংযোগস্থলও ঠিকঠাক ছিল না বলে মনে হচ্ছে। সেই সঙ্গে কংক্রিটের ছাদের মাত্রাতিরিক্ত ভার নীচের লোহার বিমগুলি ধরে রাখতে পারেনি। যে কারণে এই বিপর্যয়। ঘটনাস্থল থেকে আমরা জানতে পেরেছি, গত কয়েকদিনে ঝড়ে লোহার ওই স্ট্রাকচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কয়েকটি পিলার আলাগা হয়ে যায়। তাই ভার সামলাতে না পেরে গোটা ছাদ ভেঙে পড়েছে। পিলারগুলি মাঝ বরাবর ভেঙে গিয়েছে।’
লক্ষণ ঢালি নামে গোডাউনের এক কর্মী এদিন বলেন, ‘গতকাল ঝড়ের সময় লোহার স্ট্রাকচারের কিছু সমস্যা হয়েছিল। চারটি পিলার নড়বড় করছিল। সেটা দেখার জন্য কন্ট্রাকটর আসগর হোসেন এখানে এসেছিলেন। কিন্তু একদিনের মধ্যে এত বড়ো ঘটনা ঘটে যাবে, আমরা কেউ ভাবতে পারিনি। কন্ট্রাকটরও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছেন।’ এদিকে, বুধবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানান, তারাতলার এই গোডাউনের নির্মাণ নিয়ে গত ১১ মে বন্দর কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিল সিটু। এদিন ঘটনাস্থলে যান সিটুর রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলম। তিনি মৃত ও কর্মক্ষমতা হারানো সব শ্রমিককে ৫০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজনের চাকরির দাবি জানিয়েছেন। নিজস্ব চিত্র