নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রেমিকের সঙ্গে সংসার পাততে চেয়েছিলেন মহিলা। একরত্তি মেয়েকে নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পাড়ি দিয়েছিলেন অন্ধপ্রদেশে। কিন্তু পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াল সেই শিশু। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে মেয়েকে আছড়ে খুন করেন দু’জনে মিলে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা পুলিস। এমন হাড়হিম ঘটনা জানতে পেরে তাজ্জব পুলিস কর্তারাও। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে দু’জনকে নিয়ে এসে গ্রেপ্তার করেছে ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার পারুলিয়া কোস্টাল থানা। দিন কয়েক আগে ডায়মন্ডহারবারে আনা হয় দু’জনকে। জেরায় মেয়েকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন মা।
জানা গিয়েছে, বছরখানেক ধরে সরিষা অঞ্চলের কামারপোলের বাসিন্দা নাজিরা বিবির সঙ্গে রায়দিঘির বাসিন্দা তাজউদ্দিন মোল্লার অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। নাজিরা বিবি একটি চিমনির কারখানায় কাজ করতেন। তাজউদ্দিন একটি বেসরকারি বাসের কন্ডাক্টর ছিলেন। রোজ যাতায়াতের সুবাদে দু’জনের মধ্যে পরিচয় হয়। এবং তা প্রেম পর্যন্ত গড়ায়। মাস খানেক আগে ওই মহিলা তাঁর সন্তানকে নিয়ে বেপাত্তা হয়ে যান। এই নিয়ে থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন তাঁর স্বামী আজহার লস্কর। সেই মতো পুলিস তদন্তে নেমে মোবাইলের সূত্রে ধরে নাজিরার খোঁজ পায় অন্ধ্রপ্রদেশে। তদন্তকারীদের একটি দল সেখানে গিয়ে খোঁজ খবর করে জানতে পারে, মহিলা তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে এখানে এসেছেন। তিন বছরের মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। তাকে কবর দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছিল। এরপর সেখানে যাবতীয় প্রক্রিয়া মিটিয়ে দু’জনকে ডায়মন্ডহারবার নিয়ে আসা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের সময়, সন্তানের মা পুলিসকে জানান, মেয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তাই তাকে খুন করা হয়েছে। নাজিরা এখন এক মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই খবর নাজিরার শ্বশুরবাড়ি আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সবাই। মহিলার স্বামী তাঁর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার অতিরিক্ত সুপার মিতুন কুমার দে জানান, সাম্প্রতিককালে এমন মর্মান্তিক ঘটনার নজির বিরল। অভিযুক্ত প্রেমিক যুগলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। রুজু করা হয়েছে খুনের মামলাও। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত দু’জনকেই পুলিস হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। জেরায় ধৃত ওই মহিলা পুলিসকে জানিয়েছে, এক মাসের গর্ভবতী তিনি। ওই গর্ভস্থ সন্তান তাঁর প্রেমিকেরই।