নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: খোরপোশ মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। কিন্তু পুলিসের ফাঁদ এড়িয়ে বারবার পালিয়ে যাচ্ছিল অভিযুক্ত। শেষপর্যন্ত থানার দুই হোমগার্ডকে দম্পতি সাজিয়ে অভিযুক্তকে ইন্টেরিয়ার ডিজাইনের কাজের টোপ দেওয়া হয়। সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল মোটা অঙ্কের মজুরির প্রস্তাব। সেই টোপে পা দিতেই অভিযুক্তকে জালে তুলল নিমতা থানার পুলিস।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম রাজেশ দাস। বাড়ি নিমতার পাটনা ঠাকুরতলায়। তিনি পেশায় ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের কাজ করেন। বছর খানেক আগে নিমতার এক তরুণীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। তাঁদের এক মেয়ে রয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চরমে ওঠে। স্ত্রীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। এরপর আলাদা হয় সংসার। বারাকপুর মহকুমা আদালতে এ নিয়ে খোরপোশের মামলা চলছে। অভিযোগ, বিভিন্ন অছিলায় আদালতের শুনানিতে হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন রাজেশ। এরপর বারাকপুর আদালতের বিচারক রাজেশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পুলিস বেশ কয়েকবার তাঁর সম্ভাব্য ডেরায় তল্লাশি চালালেও নাগাল পায়নি তাঁর। এরপর নিমতা থানার আইসি সঞ্জয় কুণ্ডুর নির্দেশে তল্লাশির ধরন বদলে অভিযুক্তকে ধরতে ফাঁদ পাতে পুলিস। থানার দুই অস্থায়ী হোমগার্ডকে দিয়ে অভিযুক্তকে ফোন করা হয়। তাঁরা দম্পতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে নতুন বাড়ির অন্দরসজ্জার কাজ করার কথা বলেন। তাঁরা বলেন, ‘আর্জেন্ট’ আছে। তাই দ্রুত কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে তাঁরা বাড়তি মজুরি দিতে প্রস্তুত। এই টোপ গিলে রাজেশ তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে এলে সাদা পোশাকের পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করে।



