Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

সিনেমার সমালোচনা: দেশপ্রেম! মেলালেন তিনি মেলালেন

হামজা আলি মাজহারি আসলে কে? অতীতে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল? এরকম প্রশ্ন রেখেই শেষ হয়েছিল ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম পর্ব। তারপর কেটেছে তিন মাস।

সিনেমার সমালোচনা: দেশপ্রেম! মেলালেন তিনি মেলালেন
  • ২১ মার্চ, ২০২৬ ১০:০৩
Prefer us on Google

ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ

Advertisement

রণবীর সিং • অর্জুন রামপাল 
সঞ্জয় দত্ত • সারা অর্জুন

হামজা আলি মাজহারি আসলে কে? অতীতে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল? এরকম প্রশ্ন রেখেই শেষ হয়েছিল ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম পর্ব। তারপর কেটেছে তিন মাস। কিন্তু এই সিনেমা নিয়ে চর্চা কমেনি। অবশেষে সেই সব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে হাজির ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ বা দ্বিতীয় পর্ব। পরিচালক আদিত্য ধরের কাছে পাহাড়প্রমাণ হাইপ সামলানোই ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ কি তিনি পার করতে পারলেন? উত্তরে বলতে হয়, অনেকটাই পেরেছেন আবার অনেকটা পারেননি। 
আগে ভালো দিক নিয়ে আলোচনা করা যাক। প্রথম পর্বে পরিচালকের রিসার্চ ওয়ার্ক নিয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে। আইএসআইয়ের মদতপুষ্ট  সন্ত্রাসবাদ কীভাবে পাকিস্তানের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে জড়িয়ে তা বিস্তারিত দেখিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ভাগেও রয়েছে সেই রিসার্চের ছাপ। এবার জুড়েছে ভারতের রাজনীতি। হামজা ওরফে জসকিরতের অতীত জীবন এবার যে দেখানো হবে, তার ইঙ্গিত ট্রেলারেই ছিল। গল্প এগিয়েছে সেই পথেই। পাশাপাশি রহমান ডাকাইতের মৃত্যুর পর হামজা এখন ‘কিং অব লিয়ারি’। পাকিস্তানের গদি উলটে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে সে। সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই সে শুরু করে জঙ্গি নিকেশ অভিযান। ছবিজুড়ে চলে হামজার ‘রিভেঞ্জ’।
প্রথমবার বেশিরভাগ আলো কেড়ে নিয়েছিলেন অক্ষয় খান্না। দ্বিতীয়ভাগে অবশ্য রণবীর সিংই রাজা। হামজা ও জসকিরতের চরিত্রে সমান সাবলীল তিনি। পর্দায় তাঁর চোখ দেখলে কখনো ভয় লাগে, আবার কখনো মায়া হয়। মেজর ইকবাল চরিত্রে অর্জুন রামপালকে গতবার আন্ডারপ্লে করা হয়েছিল। এবার পরিপূর্ণ ভিলেন হিসাবে অবতীর্ণ হয়েছেন অর্জুন। সঞ্জয় দত্ত বা রাকেশ বেদি বেশি স্ক্রিনটাইম পাননি। তবে তাতেই যথেষ্ট। প্রশংসা প্রাপ্য আলমের চরিত্রে গৌরব গেরার। সারা অর্জুনও পরিণত অভিনয় করেছেন। অজয় সান্যালের মাধবন আরও ক্ষুরধার। প্রথম পর্বে সিনেমার গান ও আবহসংগীত ঝড় তুলেছিল। এবারও সংগীত পরিচালক শাশ্বত সচদেব পুরানো গানকে দুর্দান্তভাবে ব্যবহার করেছেন। ছবিজুড়ে দুরন্ত সব অ্যাকশন রয়েছে। পর্দায় পাকিস্তানকে ফুটিয়ে তোলার জন্য প্রশংসা পাবেন প্রোডাকশন ডিজাইনার সাইনি জোহরেও। 
এবার দুর্বলতায় আসা যাক। প্রথম পর্বে স্লো বার্ন স্পাই থ্রিলার ঘরানায় টানটান গল্প সাজিয়েছিলেন আদিত্য। কিন্তু রক্তপাত, হিংসা আর অ্যাকশনের অবিরাম স্রোতে এবার সেই গুপ্তচরবৃত্তির গল্পই যেন চাপা পড়ে গেছে। আশা ছিল, মেঘের আড়াল থেকে ‘বড়ে সাহেব’-এর আগমন হবে। কিন্তু সেটাও বড্ড ম্যাড়ম্যাড়ে। রহমানের মতো চরিত্রের অভাবে শিহরণ জাগানো কোনো টক্করই দেখা গেল না। পুরোটাই যেন হামজার ওয়ান ম্যান শো। শেষদিকে মেজর ইকবালকে সুপার-ভিলেন হিসাবে দেখানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। প্রথম পর্বেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ভাষ্য প্রচার করেছিলেন পরিচালক। তবে, তা ছিল অনেক সূক্ষ্ম। কিন্তু এবার সেই প্রচার একেবারে খুল্লামখুল্লা। নোট বাতিল সহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে যেভাবে ‘জাস্টিফাই’ করা হয়েছে, তা এই সিনেমার উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তোলে। 
তারপরেও বলতে হয়, এই রিলের যুগে প্রায় চার ঘণ্টা দর্শককে সিনেমা হলে বসিয়ে রাখা সহজ কথা নয়। তাতে পরিচালক একশোয় একশো পাবেন। কারণ, গল্পের মাঝে ও শেষে এমন সব টুইস্ট রয়েছে, যাতে দর্শক চমকাতে বাধ্য। আর এই চমকের ভরেই ছবিটি ঝড় তুলছে বক্স অফিসে। সিনেমাটা কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখবেন। একেবারে শেষ পর্যন্ত! কেন বলছি? সেটা দেখলে বুঝতে পারবেন।
শুভজিৎ অধিকারী 

 

সম্পর্কিত সংবাদ