


অনুলিখন: দেবারতি ভট্টাচার্য: আজ মহাসপ্তমী। লোখান্ডওয়ালা দুর্গোৎসবের এবছর ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করছি। আমার কাছে এ এক অপার গর্ব এবং কৃতজ্ঞতার মুহূর্ত। ১৯৯৬ সালে মুম্বইয়ের অন্যতম বৃহৎ দুর্গাপুজো দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা বিশাল এক উৎসবের আকার নিয়েছে। বাংলার ঐতিহ্য, শিল্প, সাবেকিয়ানা আর সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র এই পুজো। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও আমাদের পুজো নিয়ে আলোচনা হয়। মুম্বইয়ে বাঙালি ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই যাত্রা শুরু করেছিলাম। প্রতিবছর অগুণিত মানুষ, অনুরাগী এবং বলিউডের বন্ধুদের আনাগোনা আমাকে মনে করিয়ে দেয় শুরুর সেই দিনগুলোর কথা।
মহাপঞ্চমী থেকে আমাদের পুজো প্রাঙ্গণ সকলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। আন্ধেরিতে প্রতি বছর একই ঠিকানায় আমাদের পুজোর আসর বসে। ঢাকের তালে ধুনুচি নাচ তো পৃথিবী বিখ্যাত হয়ে গিয়েছে। এবার শুধু সাবেকি বাঙালি রসনা নয়, নানা প্রান্তের খাবারের স্টল রয়েছে থাকবে সকলের জন্য। প্রতিবারের মতো এবারও বসে ভোগ খাওয়ার আয়োজন রয়েছে।
কলকাতার পুজোর আবহ আলাদা। গোটা শহর সেজে ওঠে। মুম্বইয়ে সেটা হয় না। কিন্তু পুজো প্রাঙ্গণে বাঙালিয়ানার স্বাদ ভরপুর থাকে। দেশের নানা প্রান্তের শিল্পীদের অনন্য সৃষ্টি, দেশীয় কারুশিল্পসহ নানা আয়োজন রয়েছে। আমরা বাণিজ্য মেলা এবং প্রদর্শনীরও আয়োজন করেছি। প্রতিবছরের মতো এবারও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সকলে উপভোগ করছেন। এই পুজো সকলের পুজো। আমাদের এখানে সকলের জন্য অবারিত দ্বার। সকলে মিলে আমরা পুজোর দিনগুলো আনন্দে মেতে উঠি।