Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ধৃত সন্ন্যাসী জেলেই, বাংলাদেশে ভয়ে পরিচয় লুকোচ্ছেন হিন্দুরা

ধৃত সন্ন্যাসী জেলেই, বাংলাদেশে ভয়ে পরিচয় লুকোচ্ছেন হিন্দুরা
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ঢাকা: রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় অভিযুক্ত সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। তিনি কি জামিন পাবেন? মঙ্গলবার সকাল থেকে তাই চট্টগ্রাম আদালতের দিকে নজর ছিল সকলের। কিন্তু সন্ন্যাসীর হয়ে এজলাসে হাজিরই হলেন না কোনও আইনজীবী। ফলে চিন্ময়কৃষ্ণকে ফের এক মাসের জন্য জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। পরবর্তী শুনানি আগামী বছরের জানুয়ারিতে। আর এই ঘটনায় বাংলাদেশের মাটিতে নতুন করে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এবার টার্গেট আইনজীবীরা।
Advertisement
অভিযোগ, চিন্ময়কৃষ্ণের হয়ে যাতে কেউ সওয়াল করতে না পারেন, তার জন্য সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে অত্যাচার। চিন্ময়কৃষ্ণের প্রধান আইনজীবী রমেন রায়কে বেধড়ক মারধরের পর ছুরি দিয়ে কোপানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি। রিগান আচার্য নামে আরও এক আইনজীবীকে মারধর করা হয় চট্টগ্রাম আদালত চত্বরেই। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া তাঁর চেম্বার। এছাড়া ধৃত সন্ন্যাসীর পক্ষে দাঁড়ানো ৭০ জন আইনজীবীকে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বাকিদের ভাগ্যে জুটেছে হুমকি। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, চিন্ময়কৃষ্ণের হয়ে কেউ সওয়াল করলে তাকে পেটানো হবে বলে প্রকাশ্যেই হুমকি দিচ্ছেন অন্য আইনজীবীরা। প্রাণে বাঁচতে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। যদিও এত কিছুর পরেও ‘অপপ্রচার’-এর তত্ত্বে অনড় মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। মঙ্গলবারও নৌপরিবহণ ও শ্রম মন্ত্রকের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা শান্তিতেই রয়েছে।
জেলে চিন্মকৃষ্ণকে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আরও দুই সন্ন্যাসী। রাস্তাঘাটে হিন্দুদের হেনস্তার একাধিক খবরও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রামে ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন হিন্দুরা। বাংলাদেশ ইসকনের এক ভক্ত একথা জানিছেয়েছেন। একই পরামর্শ দিয়েছেন ইসকন কলকাতার মুখপাত্র রাধারমণ দাসও। এদিন সংগঠনের সন্ন্যাসী ও ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রকাশ্যে গেরুয়া পোশাক পরা ও কপালে তিলক আঁকা এড়িয়ে চলুন। আপাতত গোপনে ঘরের ভিতরে বা মন্দিরে ধর্মাচরণ করুন। তবে এটা কোনও গাইডলাইন নয়। আতঙ্কিত ভক্ত ও সন্ন্যাসীদের জন্য রাধারমণের ব্যক্তিগত পরামর্শ। ইতিমধ্যেই তা মানতে শুরু করেছেন ওপার বাংলার হিন্দুরা।
চিন্ময়কৃষ্ণের জামিনের মামলার শুনানির জন্য এদিন চট্টগ্রাম আদালতে ছিল আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা। যদিও তাঁকে আদালতে নিয়ে আসা হয়নি। সন্ন্যাসীর জামিনের আর্জির শুনানি না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট। সংগঠনের তরফে বিবৃতি জারি করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়েও।
এসবের মধ্যেই বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সরব হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এমপি প্রীতি প্যাটেল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বিচারে হিংসার ঘটনা ও অস্থিরতা খুবই উদ্বেগজনক।’ বিষয়টি নিয়ে বিদেশমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির বিবৃতি দাবি করেছেন প্রীতি। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শাসকদল লেবার পার্টির এমপি ব্যারি গার্ডনারও।
সম্পর্কিত সংবাদ