Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধৃত মাদক কারবারির সঙ্গে পুলিসের একাংশের যোগ? তদন্তে নতুন মোড়

ধৃত মাদক কারবারির সঙ্গে পুলিসের একাংশের যোগ? তদন্তে নতুন মোড়
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা বারুইপুর: তাহলে কি মাদক কারবারির সঙ্গে পুলিসের একাংশের যোগ রয়েছে? মঙ্গলবার বারুইপুরের খোদারবাজার এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী মোকলেস উর শেখকে রাজ্য পুলিসের এসটিএফ গ্রেপ্তারের পর এই প্রশ্ন বড় হয়ে সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, এই মোকলেস উর শেখকে মাদক বেচাকেনার অভিযোগে ২০২১ সালে পাকড়াও করেছিল এসটিএফ। তারপর তাকে উস্থি থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এই মাদক কারবারির কাছ থেকে মিলেছিল ৮০০ গ্রাম হেরোইন। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে উস্থি থানার তদন্তকারী অফিসার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা না দেওয়ায় জামিন পেয়ে যায় অভিযুক্ত। কিছুদিন পর সেই খবর জানতে পারে এসটিএফ। তারপর থেকে মোকলেসকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল তারা। শুধু তাই নয়, উস্থি থানার তদন্তকারী অফিসার ১৮০ দিনের মধ্যে কেন চার্জশিট দিতে পারলেন না, তা নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করতে চলেছে এসটিএফ। সম্ভবত ওই তদন্তকারী অফিসারের কাছে এব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে জেলা পুলিসের অফিসারদের একাংশের সঙ্গে মাদক কারবারির সখ্যের বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। ওই মাদক কারবারিকে কোন কোন পুলিস অফিসার ও কর্মী মদত দিয়েছেন, তাও জানার চেষ্টা চলছে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, জামিন পাওয়ার পর বেশ কিছুদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছেড়ে অন্যত্র ঘাঁটি গেড়েছিল মোকলেস উর শেখ। তবে অন্য জেলায় গিয়েও ফের শুরু করেছিল হেরোইনের ব্যবসা। ২০২২ সালের শেষে সে আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ফিরে আসে। মগরা, উস্তি, বারুইপুর, ক্যানিং সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ব্যবসা ফেঁদেছিল। সর্বত্রই ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিত। কিন্তু এক জায়গায় বেশিদিন থাকত না। দু’-তিনমাসের মধ্যেই ডেরা বদল করত। পুলিসের নজর এড়াতে ঘনঘন মোবাইল ফোন ও নম্বরও বদলে ফেলত মোকলেস। তাই তার নাগাল পাচ্ছিল না এসটিএফ। এবার খবর পাওয়ামাত্র সঙ্গে সঙ্গে বারুইপুরে হানা দেন এসটিএফের তদন্তকারীরা। মাদক কারবারির ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে কোটি টাকার উপর হেরোইন, ২৭ লক্ষ টাকা নগদ ও প্রচুর সোনার অলঙ্কার। এখান থেকে মোকলেস ও তার শ্যালকের শাশুড়ি তথা ব্যবসার অন্যতম মাথা সেরিনা বিবিকে পাকড়াও করেন এসটিএফের অফিসাররা।
তদন্তে জানা গিয়েছে, মাদক কারবার চালানোর জন্য ৪০-৫০ জনের একটি টিম রয়েছে মোকলেসের। সে মোবাইলেই অর্ডার নিত। সেরিনা বিবি পলাশীতে গিয়ে হেরোইন নিয়ে আসত। তবে সেই হেরোইন বারুইপুরে ঢুকত না। তার আগেই মাঝপথে টিমের লোকজন টাকার বিনিময়ে সেরিনা বিবির থেকে তা সংগ্রহ করত। মোকলেস তার স্ত্রীকেও এই ব্যবসায় নামিয়েছিল বলে খবর। দু’মাস আগে অভিযুক্ত ৩৭ লক্ষ টাকা দিয়ে বারুইপুরের উকিলপাড়ায় একটি লটারির দোকান খুলেছিল। রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে তার স্ন্যাকসের দোকানও। এই দু’টি দোকানের আড়ালে মাদকের হাতবদল হতো বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। এই বেআইনি কারবারের টাকায় দু’টি মোটরবাইক ও প্রচুর সোনার অলঙ্কার কেনা হয়েছে। কোথা থেকে এসব কেনা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ