Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘ধর্মেন্দ্র প্রধান দুর্নীতিপরায়ণ মন্ত্রী ছিলেন’, বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর মন্তব্যে তোলপাড়

বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দুর্নীতিপরায়ণ মন্ত্রী আখ্যা দিলেন। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ। বিস্তারিত পড়ুন।

‘ধর্মেন্দ্র প্রধান দুর্নীতিপরায়ণ মন্ত্রী ছিলেন’, বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর মন্তব্যে তোলপাড়
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, বোলপুর: কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, যার আচার্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। অথচ সেখানেই নিয়োগে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ! এর পিছনেও কি হাত রয়েছে সদ্যপ্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের? নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে দেশজুড়ে চরম বিক্ষোভের মুখে শনিবার পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ইস্তফার পরই তাঁকে দুর্নীতিপরায়ণ আখ্যা দিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। তাঁর মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় বিশ্বভারতী ও শিক্ষামহল।

Advertisement

বিদ্যুৎবাবুর দাবি, উপাচার্য থাকাকালীন শিক্ষামন্ত্রীর একাধিক অন্যায্য সুপারিশ তিনি মানেননি। তিনি বলেন, ‘উপাচার্য থাকাকালীন আমাকে বিশ্বভারতীর হিন্দি বিভাগের অধ্যাপক চক্রধর ত্রিপাঠীকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আমি সেই নির্দেশ মানতে রাজি হইনি।’ প্রাক্তন উপাচার্যের দাবি, পরে ওই বিতর্কিত অধ্যাপককে ওড়িশার কোরাপুট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু দুর্নীতির কারণেই ১৬ মাসের মাথায় তাঁকে সেখান থেকেও উৎখাত করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তারজন্য বিশ্বভারতীকে তার পেনশন বেনিফিট না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষাদপ্তর। বিদ্যুৎবাবু আরও বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান দুর্নীতিপরায়ণ মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর নির্দেশ না মানায় আমাকে এরকম অনেক দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। শাস্ত্রী ভবনে ডেকে পাঁচ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছিল। দেখা পর্যন্ত করেননি।’ 
বিদ্যুৎবাবুর অবসরের পর বিশ্বভারতীর স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন প্রবীরকুমার ঘোষ। তারপরই বিভিন্ন বিভাগে অধ্যাপক ও প্রশাসনিক পদে নিয়োগ নিয়ে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। সম্প্রতি বিশ্বভারতীর ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগে সংরক্ষণ নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন কেন্দ্রের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রকের কাছে জবাব তলব করেছে। অন্যদিকে, ভাষা ভবনের ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, সংগীত ভবন ও শিল্প সদনেও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে অস্বচ্ছভাবে বাছাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, ইউজিসি এবং শিক্ষামন্ত্রকেও অভিযোগ জমা পড়েছে। বাংলা বিভাগে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর(এসটি) পদের নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জল গড়িয়েছে জাতীয় তফসিলি জনজাতি কমিশন পর্যন্ত। এছাড়া একাধিক প্রশাসনিক পদে চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রকাশ না করেই নিয়োগপত্র দেওয়ায় অস্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, নিয়ম মেনেই নিয়োগ হয়েছে। বিদ্যুৎবাবুর এই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসার পর থেকে নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে। 
এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘সারা দেশেই দুর্নীতি ছেয়ে গিয়েছে। ফলে বিশ্বভারতীতেও তা ঢুকবে তাতে সন্দেহ নেই। উপরতলার মদত থাকলে অনেক অসম্ভব সম্ভব হয়ে যায়।’ শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের ভাবাদর্শে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম কাম্য নয়, স্বচ্ছতা রাখা উচিত। বিশ্বভারতী ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশন প্রশ্ন তুলেছে, এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও উপাচার্য পদে থাকাকালীন বিদ্যুৎবাবু কেন প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ