Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

লা জবাব কেমিস্ট্রি

পরিচালক কামাল আমরোহি কিছুতেই ধর্মেন্দ্রকে সালিম আহমেদ খানের চরিত্রে নিতে রাজি নন। ‘পাকিজা’ ছবির কাস্টিং ঠিক করতে গিয়ে নাজেহাল গোটা টিম।

লা জবাব কেমিস্ট্রি
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:১১
Prefer us on Google

• পরিচালক কামাল আমরোহি কিছুতেই ধর্মেন্দ্রকে সালিম আহমেদ খানের চরিত্রে নিতে রাজি নন। ‘পাকিজা’ ছবির কাস্টিং ঠিক করতে গিয়ে নাজেহাল গোটা টিম। ছবির নায়িকা মীনাকুমারী—কামাল আমরোহির স্ত্রী। মীনাকুমারির বিপরীতে ধর্মেন্দ্রকে নিতে কিছুতেই রাজি করানো গেল না পরিচালককে। বদলে এলেন রাজকুমার। আসলে গোটা দেশে তখন ঢি ঢি পড়ে গিয়েছে যে ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে মীনার অ্যাফেয়ার চলছে। মীনা বয়সে বছর দুয়েকের বড় ধর্মেন্দ্রর থেকে। শুধু বয়সেই নয়, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয়তা আর কৌলিন্যেও মীনা বেশ কয়েক কদম এগিয়ে। কিন্তু প্রেমে পড়লে বয়সের কথা কে-ই বা মাথায় রাখে। ধর্মেন্দ্র আর মীনাও রাখেননি। কেরিয়ারের শুরুতে ধর্মেন্দ্রকে দেখেই মীনার চিত্ত বৈকল্য ঘটে গিয়েছিল। গ্রিক ভাস্কর্যের মতো সুগঠিত শরীর আর কাটা কাটা চোখ, নাক, মুখের অধিকারী ধর্মেন্দ্রকে দেখলে মেয়েরা প্রেমে পড়তে বাধ্য। মীনা এগিয়ে এসেছিলেন ধর্মেন্দ্রর কেরিয়ারকে তৈরি করতে। তখন ‘ফুল আউর পাত্থর’ ছবির শ্যুটিং চলছে। সেই সেটেই প্রেম। ছবি তো সুপার ডুপার হিট। হিট তাঁদের অ্যাফেয়ারও। তারপরে ছয়ের দশকে একের পর এক ছবিতে ধর্মেন্দ্রর নায়িকা মীনাকুমারি— ‘চন্দন কে পালনা’, ‘পূর্ণিমা’, ‘বাহারোঁ কে মঞ্জিল’, ‘কাজল’। মীনাকুমারিই প্রযোজকদের পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁর বিপরীতে ধর্মেন্দ্রকে নায়ক হিসেবে নিতে। এই করতে গিয়ে ধর্মেন্দ্রর কেরিয়ার যখন রকেট গতিতে উড়ছে, তখন তলিয়ে যাচ্ছে মীনাকুমারির দাম্পত্য জীবন। মীনা আর ধরমের কেমিস্ট্রিতে মজে গিয়েছিল তামাম ভারত। পরে ধরমজি অস্বীকার করেছিলেন এই অ্যাফেয়ার। বলেছিলেন, আমি মীনাকুমারির ফ্যান, তার বেশি কিছু নেই। 

Advertisement

একদিকে দু’ বছরের বড় মীনা আর অন্যদিকে ২৬ বছরের ছোট অনিতা রাজ। আটের দশকে মীনাকুমারির ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল ধর্মেন্দ্রকে আর ধর্মেন্দ্রর জায়গায় ছিলেন অনিতা রাজ। সে সময়ে ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে অনিতা রাজের সাময়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠার কথা শোনা যায়। ধর্মেন্দ্র একের পর এক ছবিতে তাঁর বিপরীতে অনিতা রাজের নাম প্রস্তাব করতেন প্রযোজকদের কাছে। এ কথা হেমা মালিনীর কানে পৌঁছতে দেরি হয়নি। তিনি সাফ বলে দিয়েছিলেন, এ জিনিস চলবে না। ধরম পা-জিও হেমার রোষের মুখে নরম হয়ে যান। 
তবে এসব ছুটকো ছাটকা অ্যাফেয়ার। আসল কেমিস্ট্রি তো ছিল হেমা মালিনীর সঙ্গে। তাঁদের জুটির প্রথম ছবি ‘তু হাসিন ম্যায় জওয়াঁ’। সেই ছবির সেটেই হেমাকে দেখে ‘হেড ওভার হিলস’ হয়ে যান ধরম। তারপর একের পর এক ছবি হিট এই জুটির। হেমার প্রতি ধর্মেন্দ্রর দুর্বলতা তখন গোটা ইন্ডাস্ট্রিতে চর্চিত বিষয়। পর্দায়ও হেমার প্রতি ধরমের প্রেম ফুটে উঠত সুচারু ভাবে। ছবিও হিট। ধরম কিন্তু ১৯ বছর বয়সেই বিয়ে করে ফেলেছিলেন প্রকাশ কৌরকে। অর্থাৎ ফিল্মে কেরিয়ার শুরুই করেছিলেন বিবাহিত হিসেবে। তবে হেমাকে ঠিক পটাতে পারছিলেন না পা-জি। হেমার তখন অ্যাফেয়ার চলছে সঞ্জীব কুমার, জিতেন্দ্রদের সঙ্গে। জিতেন্দ্র তো হেমাকে বিয়ে করবেন বলে রাজিই করিয়ে ফেলেছিলেন। তখন ধর্মেন্দ্র জিতেন্দ্রর গার্ল ফ্রেন্ডকে নিয়ে হাজির হয়ে যান বিয়ের আসরে। ব্যস, বিয়ে বন্ধ। তারপরই এল ‘শোলে’। শোলের শ্যুটিংয়েই পরিণতি পেয়েছিল ধরম-হেমার প্রেম কাহিনি। ১৯৭৫ সালে শোলে রিলিজ করে আর তার ঠিক পাঁচ বছর বাদে অর্থাৎ ১৯৮০ সালে দুজনে বিয়ে করেন। শোনা যায় দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য হেমা ও ধর্মেন্দ্র দুজনেই মুলসিম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এ কথা সাফ অস্বীকার করেছেন দুজনেই। ধরমজি বলেছিলেন, ব্যক্তিগত কারণে ধর্ম বদলাব এমন বান্দা আমি নই। 
স্বস্তিনাথ শাস্ত্রী

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ