দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি; নিট প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে শনিবারই ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি কি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ‘ট্র্যাজিক হিরো’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে? গেরুয়া শিবির কি সর্বস্তরে এটি বোঝাতে তৎপর হয়েছে যে, ধর্মেন্দ্র প্রধান আদতে পরিস্থিতির শিকার? সোমবার পদত্যাগী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কার্যত বীরের সম্মান দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের সাংসদরা।
এদিন প্রথমার্ধে সংসদ ভবন চত্বরে সদ্য প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি এসে থামতেই সেখানে ভিড় করেন বিজেপি ও এনডিএ শরিক সাংসদরা। গাড়ি থেকে হাসিমুখে হাত জোড় করে নেমে আসেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পরনে সাদা পাঞ্জাবি। ততক্ষণে গেরুয়া শিবিরের সাংসদরা তাঁকে ঘিরে নিয়েছেন। সেই ভিড়ের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি সাংসদ তরুণ চুঘ, রাহুল সিনহারা। রয়েছেন একাধিক মহিলা সাংসদও। সংসদ ভবন চত্বরেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের গলায় উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয়েছে তাঁকে। মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মানের পরিচায়ক একটি স্থানীয় টুপিও। এখানেই শেষ নয়। সংসদ ভবনের মকর দ্বার দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান ভিতরের দিকে এগতেই বিজেপি, এনডিএর সাংসদরা স্লোগান দিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীও সহাস্যে সহকর্মীদের সেই অভিবাদন গ্রহণ করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, দায় নিয়ে ইস্তফার পরেও কেন ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে এভাবে উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছে বিজেপি এমপিদের একটি বড়ো অংশ? পরীক্ষা দুর্নীতি নিয়ে মোদি সরকারের উদ্বেগ তাহলে কি অন্তঃসারশূন্য? দলীয় সূত্রের দাবি, বিজেপি নেতৃত্ব একাধিকবার বলেছে যে, ‘ককরোচ’দের আন্দোলনের পিছনে ‘বহিরাগত শক্তি’র হাত রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আন্দোলনের তীব্রতায় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখিয়ে আদতে বিজেপি এটিই প্রমাণ করতে চাইছে যে, ধর্মেন্দ্র প্রধান ‘নির্দোষ’। ইতিমধ্যেই এব্যাপারে মোদি সরকারকে চরম কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। দলের সাংসদ রেণুকা চৌধুরী এপ্রসঙ্গে টেনে এনেছেন গুজরাতের বিলকিস বানোর প্রসঙ্গ। বলেছেন, ‘অভিযুক্তদের নিয়ে বিজেপি বরাবর মাতামাতি করে। ওটিই তাদের ধর্ম।’