নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দু’টি মিছিল এবং একটি সমাবেশ। সময় প্রায় একই। স্থান সেই ধর্মতলা চত্বর। যার জেরে দিনভর ভোগান্তির শিকার হলেন সাধারণ মানুষ। শ্রমিক সংগঠন এআইইউটিইউসি অনুমোদিত সারা বাংলা মোটরভ্যান চালক ইউনিয়ন দুপুর দু’টো নাগাদ বিশাল মিছিল নিয়ে ধর্মতলায় প্রবেশ করে। আবার বিকালের দিকে আইএসএফ মুখ্য নির্বাচনি কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে বিরাট মিছিল নিয়ে ধর্মতলায় আসে। এছাড়াও ওয়েলিংটনে বিকালের দিকে কলকাতা কর্পোরেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে সভা করে বামফ্রন্ট।
মোটরভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ ও লাইসেন্স সহ সাতদফা দাবি নিয়ে পরিবহণ ভবন অভিযান করে সারা বাংলা মোটরভ্যান চালক ইউনিয়ন। রানি রাসমণি রোডে একটি বিক্ষোভ সমাবেশও করেন তাঁরা। এছাড়া ভাঙড়ের বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্ব বিরাট মিছিল শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলায় আসে। কলকাতা কর্পোরেশনের সামনে পুলিশ সেই মিছিল আটকায়। সেখানে গাড়ির উপরে উঠে বক্তব্য রাখেন নৌশাদ। দীর্ঘক্ষণ এস এন ব্যানার্জি রোড বন্ধ থাকে। বাড়ি ফেরার সময় বিপাকে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেকেই বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছন। কিন্তু সমাবেশে লোক সমাগম এতটাই ছিল, রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসতেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। মিছিল থেকে ছ’জনের প্রতিনিধি দল জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে নির্বাচন কমিশনের সিইও দপ্তরে স্বারকলিপি জমা দেয়।
একই সময় সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে ‘কর্পোরেশন চলো’ সমাবেশ করে কলকাতা জেলা বামফ্রন্ট। অভিযোগ, মাসের পর মাস পানীয় জল বন্ধ জ্যোতিনগর কলোনিতে। এদিনের সমাবেশে সেখানকার মহিলারা বালতি-কলসি নিয়ে যোগ দেন। সমাবেশে জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দা পিঙ্কি বিবি তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সিপিএম নেতা কল্লোল মজুমদার। বক্তব্য রাখেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ, সিপিআই নেতা প্রবীর দেব সহ অন্যান্য বাম নেতৃত্ব। ডিলিমিটেশন সহ কলকাতা পুর ও নাগরিক সমস্যা প্রতিকারে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্বারকলিপি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, মার্ক্স, লেনিন, হো চি মিনের নামাঙ্কিত রাস্তার নামবদলের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে বাম দলগুলো। মঙ্গলবার এসইউসিআই রাজ্য দপ্তরে সিপিএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, লিবারেশনের নেতৃত্ব বৈঠক করেন। সিদ্ধান্ত হয়েছে ১২ অক্টোবর ধর্মতলায় লেনিন মূর্তির পাদদেশে এর বিরুদ্ধে নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সমস্ত বামদল ২ অক্টোবর সকাল ১১টায় রানি রাসমণি রোডে জমায়েতের ডাক দিয়েছে। ওই দিনই নেতাজি মূর্তি থেকে গান্ধীমূর্তি পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে, মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।