নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: মাথায় আম নিয়ে পুণ্যস্নান সারলেন বহু পুণ্যার্থী। বৃহস্পতিবার আরামবাগের ডিহি বায়রা গ্রামের রাজা রণজিৎ রায়ের দিঘির পাড়ে আমবারুণি উপলক্ষ্যে দেবী দুর্গার পুজোয় ব্যাপক ভক্ত সমাগম ঘটে। শতাধিক একর আয়তনের দিঘির পাড়ে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী মেলাও। মেলায় শতাধিক দোকান বসেছে। কয়েকশো বছরের প্রাচীন এই পুজোয় দূর দূরান্ত থেকে পুরুষ ও মহিলারা পুণ্যস্নান করতে আসেন। দেবী দুর্গার পুজো দেন। মেলা তদারকি করেন রায় পরিবারের সদস্যরাই।
রায় পরিবারের সদস্য প্রবীর রায়, পলাশ রায় বলেন, রাজা রণজিৎ রায় গরবাড়িতে এসে জমিদারি স্থাপন করেছিলেন। তিনি একাধারে সাধকও ছিলেন। সাধনা করতে করতেই দেবী দুর্গাকে কন্যারূপে পেয়েছিলেন। কিন্তু একদিন রাজকার্যে ব্যস্ত থাকার সময়ে বালিকা কন্যা বায়না ধরলে তাঁকে সামনে থেকে চলে যেতে বলেন। সেই ফাঁকেই ওই বালিকা দিঘির পাড়ে এসে শাঁখারির কাছে শাঁখা পরে জলে ডুব দিয়ে বিলীন হয়েছিলেন। শাঁখারি রাজার কাছে শাঁখার দাম চাইতে গিয়ে ঘটনার কথা বলেন। পরে রাজা রণজিৎ রায় দিঘিতে এসে কন্যাকে খুঁজতে থাকেন। তখন দেবী দুর্গা রাজাকে দর্শন দেন। সেই তিথিতেই রাজা দিঘির পাড়ে দুর্গা পুজোর প্রচলন করেন। পাশাপাশি মেলা বসান।
দিঘির পাড়ের ওই মন্দিরে দেবী দুর্গা আজও পূজিত হচ্ছেন সাড়ম্বরে। সঙ্গে রয়েছেন শাঁখারি। তাঁকে শিবরূপে পুজো করা হয়। কারণ ছদ্মবেশী শিবই দেবীকে শাঁখা পরিয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে পুজো দিতে বহু ভক্ত ভিড় জমান। আসেন রায় পরিবারের সদস্যরাও। সেখানে চলছে হরিনাম সংকীর্তন।
রায় পরিবারের আরেক সদস্যরা বলেন, রাজা রণজিৎ রায় দিঘি খনন করেছিলেন। সেই দিঘির জলকে গঙ্গা হিসেবে ধরে আমরা পুণ্যস্নান করি। মাথায় আম নিয়ে স্নান করা হয়। পরে সেই আম দিঘির জলেই ভাসিয়ে দেন ভক্তরা। পবিত্র এই তিথিতে পুণ্যস্নান করলে মনস্কামনা পূরণ হয়। সেই বিশ্বাসেই বহু মানুষ আসেন। প্রাচীন রীতি মেনে মেলায় বেশ কিছু সামগ্রী আজও বিক্রি হয়। তারমধ্যে রয়েছে তালপাতার হাতপাখা, মাছ ধরার জাল, চাষের সামগ্রী, কাঠের সামগ্রী, মাদুর, কলা প্রভৃতি। রায় পরিবারের সদস্যরাই দর্শনার্থীদের সুবিধা-অসুবিধার খেয়াল রাখেন। বৃহস্পতিবার থেকে মেলা শুরু হয়েছে। ৮-০ দিন ধরে এই মেলা চলবে। নিরাপত্তার জন্য পুলিস মোতায়েন রয়েছে।