সংবাদদাতা, লালবাগ: ৫১ সতীপীঠের অন্যতম পুণ্যতীর্থ মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের কিরীটেশ্বরী। দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালীপুজো উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কিরীটেশ্বরী মন্দির সেজে উঠতে শুরু করেছে। সমস্ত মন্দির চত্বর ও মন্দির লাগোয়া এলাকা আলো দিয়ে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। সতীপীঠে পুজো দিতে রবিবার পুজোর দিন সকাল থেকেই জেলা ও জেলার বাইরে থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। ওইদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিরীটেশ্বরী মায়ের পুজো, যাগযজ্ঞ চলে। পুজো শেষে পশুবলিও দেওয়া হয়।
কিরীটেশ্বরী মন্দির হল হিন্দু শাক্ত মতে পবিত্র তীর্থ পীঠগুলোর অন্যতম। মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম থানার কিরীটেশ্বরী মৌজায় কিরীটেশ্বরী মন্দির ওই জেলার প্রাচীন মন্দিরের মধ্যে একটি। দেবীর নাম অনুসারে গ্রামের নাম হয়েছে কিরীটেশ্বরী। তন্ত্রমতে ও পুরাণ কাহিনী অনুসারে এখানে দেবীর দক্ষিয়ণী সতীর কিরীট অর্থাৎ মুকুটের কণা পতিত হয়েছিল। আবার এখানে দেবীর অঙ্গ পতিত না হয়ে ভূষণ পতিত হয়েছিল বলে এই স্থানকে অনেকে তন্ত্রবিদপূর্ণ পীঠস্থান না বলে উপপীঠও বলে থাকেন। তবে এই নিয়ে তর্কের শেষ নেই। লোকবিশ্বাস অনুসারে শক্তিপীঠ নামাঙ্কিত স্থানগুলিতে সতীর দেহের নানান অংশ ও অলংকার প্রস্তুরীভূত অবস্থায় রক্ষিত আছে। পাঠান-মুঘল শাসনকালেও এই স্থানের খ্যাতি ছিল। আঠারো শতকের শেষে ফার্সি ভাষায় রচিত ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘রিয়াজ-উস-সালাতিনে’ এবং রেনেলের কাশিমবাজার দ্বীপের মানচিত্রে তিরুথকোণা নাম পাওয়া যায়। তাছাড়া ‘ভবিষ্যৎ পুরাণ’-এর ভৌগোলিক বিবরণ ব্রহ্মাণ্ড অধ্যায়ে কিরীটকোণার উল্লেখ্য পাওয়া যায়। ১৪০৫ সালে আদি দক্ষিণমুখী মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল। আদি মন্দিরটি বর্তমানে লুপ্ত। গ্রামের দক্ষিণ অংশের কয়েক বিঘা জায়গা জুড়ে কিরীটেশ্বরী বর্তমান মন্দিরটি অবস্থিত। আঠারো শতকের প্রথম দিকে পশ্চিমমুখী বর্তমান মন্দিরটি নির্মাণ করান কানুনগো বঙ্গাধিকারী দর্পনারায়ণ রায়। মন্দিরের গর্ভগৃহে বিগ্রহ নেই, মন্দিরের ভিতরে একটি মর্মরবেদীর ওপর রয়েছে কালো পাথরের পীঠিকা। স্থানয়দের বিশ্বাস তার উপর ছিল দেবীর কিরীট। বর্তমানে ওই কিরীট গ্রামের একধারে ‘গুপ্তমঠ’ নামে একটি মন্দিরে লাল রেশমি কাপড়ে মুড়ে একটি কলসে রাখা আছে। কিরীটেশ্বরী মন্দিরের সেবাইত দিলীপ ভট্টাচার্য বলেন, এটি সতীপীঠ হওয়ার কারণে এখানে দুর্গাপুজো এবং কালীপুজো হয় না। তবে দুর্গা পুজোর অষ্টমীতে এবং কালীপুজোর দিন মায়ের পুজো দিতে প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়। • নিজস্ব চিত্র



