নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার নড়রা গ্রামে কালীর ভোগে দেওয়া মাগুর মাছের ঝোল খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করেন ভক্তরা। দীর্ঘদিন ধরে বাঁকুড়া-২ ব্লকের নড়রা নামোবাজার বড়ো কালী মন্দিরে ওই রীতি চলে আসছে। কথিত আছে, আগে মায়ের পুজোর আগে বৃষ্টি হত। সেই বৃষ্টির জল গিয়ে পড়ত মন্দির সংলগ্ন পুকুরে। সেই জলের ধারা বেয়ে পুকুর থেকে উঠে আসত মাগুর মাছ। সেই মাছ দেবীর উদ্দেশ্যে বলি দেওয়া হত। তা দিয়েই মায়ের ‘গঞ্জভোগ’ রান্না করা হত। পুজোর পর সেই ভোগের প্রসাদ ভক্তরা গ্রহণ করত। এখনো সেই প্রথা চালু রয়েছে। মাগুর মাছের পাশাপাশি বর্তমানে মন্দিরে ছাগ বলি দেওয়া হয়। যদিও বলিপ্রদত্ত সেই ছাগ কেউ বাড়ি নিয়ে যান না। মন্দির প্রাঙ্গণেই প্রসাদ রান্না হয়। পুজোর পরদিন কয়েক হাজার মানুষ সেই মহাপ্রসাদ গ্রহণ করে।
একসময় নড়রা গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির পুজো হিসাবেই ওই কালীপুজো পরিচিত ছিল। বর্তমানে তা গোটা গ্রামের পুজো হয়ে উঠেছে। বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির সদস্যরা ২৫ প্রজন্ম ধরে ওই পুজো করে আসছেন। তাঁদের দাবি, পুজো প্রায় ১২০০ বছরের পুরানো। প্রতি প্রজন্মের জন্য দেবীকে একটি করে নৈবেদ্য সাজিয়ে দেওয়া হয়। এটাই ওই পুজোর পরম্পরা। প্রজন্ম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নৈবেদ্যর সংখ্যাও বাড়তে থাকে।
মন্দিরের অন্যতম সেবাইত ফাল্গুনি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা জয়রামবাটি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। কোনো কারণে দেবতা রুষ্ট হওয়ায় একবার নড়রা গ্রামের একটি রঘুনাথের মন্দিরের দরজা কিছুতেই খুলছিল না। তখন সেবাইতরা স্বপ্নাদেশ পেয়ে আমাদের এক পূর্বপুরুষকে গ্রামে আনেন। তিনিও স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন বলে শোনা যায়। পরে বিশেষ এক তন্ত্রসাধনা করে ওই পূর্বপুরুষ নড়রা গ্রামে কালীপুজো শুরু করেন। তালপাতা, খড়ের চালা হয়ে বর্তমানে পাকা ঠাকুর দালানে দেবী বিশালক্ষীরূপে পূজিত হন। তিনি আরও বলেন, আগের মতো এখন আর পুকুর থেকে মাগুর মাছ ওঠে না। তবে তা আমাদের কিনতে হয় না। মা নিজেই তা জোগাড় করে নেন। কেউ না কেউ ঠিক পুজোর আগে মাগুর মাছ নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে হাজির হয়ে যান। তিনি আরও বলেন, একবার মা কালীর শাঁখা পরতে ইচ্ছা হয়েছিল। তিনি বাঁকুড়া শহরের এক শাঁখারীকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে নিজের পছন্দের শাঁখ থেকে তা বানানোর জন্য বলেন। এখনো বলিদানের আগে দেবীর শরীর বা ঘট থেকে ফুল পড়ে। মায়ের অনুমতি না নিয়ে বলি শুরু হয় না। ছাগ ও মাগুর মাছের পাশাপাশি মন্দিরে চালকুমড়ো, শসা ও আখ বলি হয়। পুজো দেখতে নড়রা সহ আশাপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ মন্দিরে ভিড় করে। নড়রা গ্রামের কালী প্রতিমা। -নিজস্ব চিত্র



