Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাগীরথীর ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে পূর্বস্থলীর দেবনগর গ্রাম

ভাগীরথীর ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে পূর্বস্থলীর দেবনগর গ্রাম৷ জল বাড়তেই শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন৷ আর সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের৷ পাড়ে ক্রমাগত ধস নামছে।

ভাগীরথীর ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে পূর্বস্থলীর দেবনগর গ্রাম
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া :  ভাগীরথীর ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে পূর্বস্থলীর দেবনগর গ্রাম৷ জল বাড়তেই শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন৷ আর সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে  নদীপাড়ের বাসিন্দাদের৷ পাড়ে ক্রমাগত ধস নামছে। নদীর ঢেউ ভাঙছে পাড়। আর তার জেরেই দেবনগর গ্রামের  মানচিত্রটাই বদলে যাচ্ছে।  চিন্তা বেড়েছে বাসিন্দাদের৷ গ্রাম বাঁচাতে অসহায় বাসিন্দাদের দাবি, ভাঙন রোধের জন্য  একযোগে কাজ করতে হবে৷

Advertisement

পূর্বস্থলী-২ ব্লকের মেড়তলা পঞ্চায়েতের দেবনগর গ্রাম পূর্ব বর্ধমানের মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। ভাগীরথী নদীর অপর পাড়ে গ্রামটি নদীয়া জেলার মূল ভূ-খণ্ডের মধ্যে অবস্থিত৷ আগে এই গ্রামে প্রায় দু’শো ঘর বাসিন্দা ছিলেন৷ ২০০০ সালের পর থেকে গ্রাম ছাড়েন অনেকেই। এখন মেরেকেটে সেখানে ৭০-৮০ টি পরিবার কোনমতে টিকে রয়েছে। একটি বুথে ৩৫০ ভোটার রয়েছেন। গ্রামের বাসিন্দাদের মূল জীবিকা নদীর চরে সবজি চাষ৷ বাসিন্দাদের দাবি, ভাগীরথীর কবলে অনেকেরই ভিটেমাটি চলে গিয়েছে। এমনকি, চাষের জমি গিলেছে নদী৷ বছর সাতেক আগে দেবনগর গ্রামে কোটি টাকা খরচা করে পাথর দিয়ে ভাঙন রোধ করা হয় বটে, কিন্তু তাতেও রোখা যাচ্ছে না বিপদ। আবার নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে এলাকায়।  
গ্রামের বাসিন্দা জয়ন্ত মণ্ডল বলেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় হলে আমাদের কৃষ্ণনগর ছুটতে হয়৷ আর প্রশাসনিক কাজকর্ম হলে মেড়তলা বা কাষ্ঠশালী ঘাট পেরোতে হয়৷  প্রতিদিনই জলোচ্ছাসে ভেঙে পড়ছে নদীপাড়। একে একে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে ঘর, মাঠ-বাগান। এখন বর্ষা এসেছে, তাই চিন্তাও বাড়ছে। 
গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাসরা বলেন, আমরা চাইছি নদীর পাড় শক্ত করে বাঁধানো হোক। তা না হলে গ্রাম বাঁচানো যাবে না। 
অন্যদিকে বর্ষা এলেই চিন্তা বাড়ে পূর্বস্থলীর ঝাউডাঙা, হালচাতরা, কিশোরীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দাদের।  কোথাও ঝুপঝাপ নদী পাড়ের মাটি ধসে যাওয়ার শব্দে ঘুম আসে না। আবার কোথাও ভাঙনে নদী গহ্বরে কৃষিজমি, বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার চিন্তা বাড়ে৷  নদী পাড়ের মাটি ধসতেই নিজের বসত বাড়ি ভেঙে ফেলতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কেউ কেউ নদী পাড় থেকে বাপ ঠাকুরদার ভিটের মায়া ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসন নজর দিক ভাঙন রোধে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ