জার্মানি- ১ : প্যারাগুয়ে- ১
(টাই-ব্রেকারে ৪-৩
ব্যবধানে জয়ী প্যারাগুয়ে)
জার্মানি- ১ : প্যারাগুয়ে- ১
(টাই-ব্রেকারে ৪-৩
ব্যবধানে জয়ী প্যারাগুয়ে)
বোস্টন: ম্যাচের পর কেটে গিয়েছে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক। তখনও বোস্টন স্টেডিয়াম চত্বরে দাঁড়িয়ে ক্রিস ডুকাস। গায়ে জার্মানির জার্সি। চোখেমুখে একরাশ হতাশা। রাগে ক্রমশ মুখের রং বদলে যাচ্ছে। বিশ্বাসই হচ্ছে না, এভাবেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া যায়! সোমবার রাউন্ড অব ৩২’এর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের কাছে টাই-ব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কাপযুদ্ধের ইতিহাসে নক-আউটে কখনো গোল করতে না পারা দলের কাছে এই হার যেন মেনে নিতে পারছিলেন না মিউনিখ থেকে আসা ডুকাস। সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘এই জার্মানির কিস্যু হবে না। শেষ দু’টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায়ের পর এবার অন্তত ভেবেছিলাম, দল ভালো কিছু করবে। তবে এই প্রজন্মের ফুটবলাররা এই জার্সির ওজনই বুঝতে ব্যর্থ।’ সঠিক বিশ্লেষণ ডুকাসের। বেকেনবাওয়ার, লোথার ম্যাথিউজ, বালাক, টমাস মুলারদের উত্তরসূরিদের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্স সত্যিই মেনে নেওয়া অসম্ভব। দায় এড়াতে পারেন না কোচ নাগেলসম্যানও।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সোমবারের আগে পর্যন্ত কখনও টাই-ব্রেকারে হারেনি জার্মানরা। অথচ সেই রেকর্ডও বদলে গেল। ম্যাচের সিংহভাগ দাপট দেখিয়েও সুযোগ নষ্টের খেসারত দিলেন সানে-হাভার্টরা। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে বিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে ২১টি শট নেন জার্মান অ্যাটাকাররা। শুধু তাই নয়, ম্যাচে ৭৫ শতাংশ বল পজেশন ছিল তাদের দখলেই। তা সত্ত্বেও ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে পিছিয়ে পড়ে কোনোক্রমে সমতায় ফেরে নাগেলসম্যানের ছেলেরা। অতিরিক্ত সময়ে অবশ্য জার্মানিকে লিড এনে দিয়েছিলেন জোনাথন তা। তবে ভারের সাহায্য নিয়ে তা বাতিল করেন রেফারি। যা নিয়ে ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগড়ে দেন কোচ নাগেলসম্যান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের আসরে এমন সিদ্ধন্তে মেনে নেওয়া কঠিন। ওটা গোল হলে ফল অন্য হতেই পারত। তবে সেই দিয়ে আমাদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাই না।’
টাই-ব্রেকারে বিপক্ষের দু’টি শট রুখেও সতীর্থদের ব্যর্থতায় খালি হাতেই ফিরতে হল জার্মান অধিনায়ক ম্যানুয়েল ন্যুয়েরকে। ৪-৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট পাকা করল প্যারাগুয়ে। আর বিশ্বকাপ থেকে দল বিদায় নিতেই অবসরের কথা ঘোষণা করলেন এই অভিজ্ঞ দুর্গপ্রহরী। ম্যাচ শেষেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ন্যুয়ের বলেন, ‘এভাবে শেষটা না হলেও পারত। এবার থামার সময় এসেছে।’