


পূর্বাশা দাস: কথা দিয়েছিলেন তাঁরা। সেই কথা রাখতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একসঙ্গে লাইভে এলেন অভিনেতা জুটি দেব এবং শুভশ্রী। এই লাইভ থেকেই বাংলা ছবির এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন দু’জনে। চলতি বছরের পুজোতেই মুক্তি পাবে দেব-শুভশ্রী জুটির সপ্তম ছবি। অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর রিলিজ হতে পারে সেটি। তার ন’মাস আগে ১৯ জানুয়ারি সোমবার থেকেই অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। যা বাংলা ছবির জন্য নিঃসন্দেহে এক মাইলফলক।
দেব ও শুভশ্রী জুটির এই কামব্যাকের পথ মোটেই কুসুমাস্তীর্ণ নয়। রয়েছে বেশ কিছু বাধা। স্ক্রিনিং কমিটির সঙ্গে দেবের মত পার্থক্য এর আগে বারংবার প্রকাশ্যে এসেছে। স্ক্রিনিং কমিটিও বাংলা ছবির ক্যালেন্ডার এখনও প্রকাশ করেনি। ইম্পার তরফে বলা হয়েছে, অনেক প্রযোজকের সঠিক ডেট না পাওয়ার কারণেই ১৯ জানুয়ারি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা যায়নি। এই আবহে দেব ও শুভশ্রী জুটির অনলাইন অগ্রিম টিকিট বুকিং বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিনের সোশ্যাল মিডিয়া লাইভ বেশ কিছু টুকরো মুহূর্তের কোলাজ হয়ে রইল। দেব জানালেন, কীভাবে নতুন ছবির জন্য শুভশ্রীকে রাজি করালেন তিনি। ডিসেম্বরের শেষে শুভশ্রী যখন সপরিবারে বেড়াতে গিয়েছিলেন তখনই নাকি ফোন করেছিলেন অভিনেতা। প্রস্তাব শুনে এককথায় রাজি নায়িকা। তারপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবির ঘোষণা করেন তাঁরা। দেব জানিয়েছেন, শুভশ্রী রয়েছেন বলেই এই ছবি তাঁর কাছে স্পেশাল। যদিও অনুরাগীদের কাছে তাঁদের আর্জি, ‘লাইভ শেষ হলেই আমাদের পার্টনারকে আক্রমণ করবেন না। আমরা ব্যক্তিজীবনে ভালো আছি বলেই কাজগুলো করতে পারছি। অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। রাজ-রুক্মিণীর সম্মানের সঙ্গে আমাদের সম্মানও জড়িয়ে রয়েছে। আমাদের যতটা শ্রদ্ধা করেন, সেটা ওদেরও প্রাপ্য।’
আলোচিত জুটির সপ্তম ছবি প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে নন্দী মুভিজ। ছবির নাম নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছেন তাঁরা। ছবিটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন সুজিত দত্ত। এখানেই দেব এবং জিতের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আঁচ করেছেন অনেকে। কারণ একই প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে তৈরি হচ্ছে জিৎ অভিনীত ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’। পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৬ এর পুজোতেই মুক্তি পাওয়ার কথা এই ছবির। কিন্তু, স্ক্রিনিং কমিটির নিয়ম অনুযায়ী একই প্রযোজনা সংস্থার দুটি ছবি ‘প্রাইম ডেট’ পাবে না। নিয়মের ফাঁসে আটকে রয়েছে ছবি মুক্তি সংক্রান্ত এক ঝাঁক প্রশ্ন। প্রসঙ্গত, নন্দী মুভিজ-এর প্রযোজনায় দেব অভিনীত ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’ মুক্তি পেতে পারে স্বাধীনতা দিবসে। সেই পরিবর্তিত ক্ষেত্রে ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ ছবিটিও স্বাধীনতা দিবসের সময় মুক্তি নিয়ে সমস্যা বাড়তে পারে। তবে সব সমস্যা কাটিয়ে ছবি মুক্তিই একমাত্র লক্ষ্য। বাংলা ছবির লক্ষ্মীলাভ, বাংলা ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যেই ঘুরে দাঁড়াবে ইন্ডাস্ট্রি। এই আশাতেই বুক বাঁধছেন সকলে।