তাপস কাঁড়ার: সংবেদনশীল মানুষ যদুপতি। প্রান্তিক মানুষদের জন্য তার মনের দরজা খোলা। শিশুদের জন্য তার হৃদয় ব্যাকুল হয়ে ওঠে। যখন মনের ভিতরটা শীতল থাকে তখন সে নিরন্তর শুনতে পায় অগুণতি শিশুর কান্না। যে কান্না যদুপতির হৃদয় তোলপাড় করে তোলে। অসহায় মানুষদের জন্য সংকল্পিত তার জীবন। জীবন বাজি রেখে এমন সব কান্ড করে, যা মাঝে মাঝে অলৌকিক মনে হয়। এই পৃথিবীকে কীভাবে শিশুদের বাসের উপযুক্ত করে তোলা যায়, সেই চিন্তা সব সময় তার মাথায়। এই ছোট জীবনের মধ্যে আরও কিছু করতে হবে তাকে। হঠাৎ একদিন ঠিক করল আয়ুদান করবে। মরণাপন্ন মানুষদের আয়ুদান করে চিকিৎসার সুযোগ করে দেবে।
এমন এক কাল্পনিক ভাবনার উপর দাঁড়িয়ে মোহিত চট্টোপাধ্যায় ‘আয়ুদান’ নাটকটি লিখেছেন। নাট্য রূপ ও পরিচালনায় সমীর বিশ্বাস। মাঙ্গলিক দলের আটান্নতম জন্মবার্ষিকীতে সম্প্রতি নতুন প্রযোজনাটির মঞ্চায়ন হল অ্যাকাডেমিতে। কাল্পনিক ভাবনাকে কেন্দ্র করে গল্পের গলিপথে এগিয়েছে নাটক। বর্ষীয়ান অভিনেতা ও পরিচালক সমীর বিশ্বাসের চোখ জুড়ানো অভিনয় ছিল নাটকের প্রধান আকর্ষণ। নাটকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যদুপতিকে বিভিন্ন আঙ্গিকে দর্শকদের কাছে তুলে ধরেছেন তিনি। আনন্দ, অভিমান, অভিযোগ, আত্মসম্মান তাঁর বলিষ্ঠ অভিনয়ে সাবলীল ভাবে উঠে এসেছে। তার সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী চারুর ভূমিকায় রুমকি চট্টোপাধ্যায়। চারুর দাদার ভূমিকায় প্রসূন বন্দোপাধ্যায় উল্লেখযোগ্য। ডাক্তারের চরিত্রে অভিজ্ঞ দেবাশিস গাঙ্গুলি অসাধারণ। তাঁর বাচন ভঙ্গি থেকে শরীরী ভাষা দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। এছাড়া গোঁসাইয়ের চরিত্রে সব্যসাচী দাশগুপ্ত, পুলিশের চরিত্রে অসীম বোসের অভিনয় ভালোই ছিল। বাবলু সরকারের আলো ও শম্ভু নাথের আবহ নাটকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছে।