Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে অনিয়ম খুঁজতে গ্রামে ঘুরছে ‘গোয়েন্দারা’

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে অনিয়ম খুঁজতে গ্রামে গ্রামে ঘুরছে ‘গোয়েন্দারা’।

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে অনিয়ম খুঁজতে গ্রামে ঘুরছে ‘গোয়েন্দারা’
  • ১২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে অনিয়ম খুঁজতে গ্রামে গ্রামে ঘুরছে ‘গোয়েন্দারা’। প্রকল্পের কাজ কতদূর এগিয়েছে বা আদৌ শুরু হয়েছে কি না তা নিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন তাঁরা। ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের কাছে তাঁরা গ্রাউন্ড রিপোর্ট পৌঁছে দিচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাতার, মেমারি সহ কয়েকটি এলাকায় বাড়ি তৈরির কাজ অনেকে শুরু করেনি। অথচ তারা কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু গোয়েন্দারা গ্রামে গিয়ে অন্য ছবি দেখেন। তারপরেই ওই উপভোক্তাদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করায় উপভোক্তদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, যাদের অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে তাদের প্রত্যেককেই বাড়ি তৈরি কাজ শুরু করতে হবে। সেটা না করলে টাকা ফেরত দিতে হবে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে পূর্ব বর্ধমানের ৭০ হাজারের বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় চার হাজার বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করতে গড়িমসি করছে। আর এক আধিকারিক বলেন, দ্বিতীয় কিস্তি টাকা দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। যারা প্রথম কিস্তির টাকা খরচ করেছে, তারাই দ্বিতীয়বার সুবিধা পাবে। উপভোক্তদের একাংশের দাবি, সমস্ত ইমারতি সামগ্রীর দাম বেড়ে গিয়েছে। বরাদ্দ হওয়া টাকায় বাড়ি তৈরির কাজ সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই অনেকেই কাজ করছে না। জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখার জন্য প্রতিটি ব্লকের কর্মীরাই গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। তাঁরাই গোয়েন্দাদের মতো গোপনে কাজ করছেন। কাউকে কিছু না জানিয়েই তাঁরা সঠিক রিপোর্ট প্রশাসেনর কর্তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, অনেকেরই জমি ছিল না। তাদের পাট্টা দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ নিজস্ব তহবিল থেকে তাদের বাড়ি তৈরি করে দেবে। যেসব উপভোক্তার নাম  বাংলার বাড়ি প্রকল্পে নেই, তারাই এই সুবিধা পাবে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলিকে সাহায্য করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে স্থায়ী সমিতির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। জেলার প্রতিটি ব্লকেই উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির জন্য টাকা দেওয়া হবে। তবে এই প্রকল্পের টাকা অন্য খাতে খরচ করা যাবে না। অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার পরেই বাড়ি তৈরি কাজ শুরু করতে হবে। তা না হলে টাকা ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ