


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে দু’দফার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে বিজেপি প্রার্থীদের। হলফনামা দিয়ে পদ্মপার্টির প্রার্থীরা তা জানালেও, ধর্তব্যের মধ্যে নিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন। বরং নজিরবিহীন ভাবে গোটা রাজ্যে কমপক্ষে ১৬ জন প্রাথী সহ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২৯৪ জন ভোট ম্যানেজার ও নেতাদের ‘ট্রাবল মেকার’ তকমা সাঁটিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি যে নির্দেশিকা রাজ্য পুলিশের ডিজিকে পাঠানো হয়েছে, তাতে স্পষ্ট, তৃণমূলের ভোট ম্যানেজারদের নির্বাচন থেকে ‘বিরত’ রাখার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। পদ্মপার্টির নোয়াপাড়া এবং বন্দরের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ থাকলেও, এক্ষেত্রে কমিশন ‘গান্ধারী’ হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। জোড়াফুল শিবিরের অভিযোগ, তালিকায় দলের এমন লোকজনও রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কোনো মামলাই নেই। শুধু বিজ্ঞপ্তি জারি করেই ক্ষান্ত থাকেনি জ্ঞানেশ কুমারের কমিশন। মঙ্গলবার কমিশনের পুলিশ অবজারভারের তরফে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তিদের নাম তালিকায় রয়েছে, সবকিছু খতিয়ে দেখে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। কী হবে সেই ব্যবস্থা? তার ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন। ভোটারকে ভীতিপ্রদর্শন বা ভোটদানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শুধু এফআইআর বা নোটিস পাঠালেই চলবে না। যেখানে আগাম আটকের যৌক্তিকতা রয়েছে, তা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বুথ বা এলাকায় টহলদারি বৃদ্ধি এবং ‘ট্রাবল মেকার’এর গতিবিধির উপর নজর রাখতে হবে। দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী এবং ভোট ম্যানেজারদের ‘গ্রেপ্তার-আটক’ করার আশঙ্কা নিয়ে সোমবারই কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাকারীর তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আজ, বুধবার মামলার শুনানি হওয়ার কথা।